গতানুগতিক সিলেবাসের কারণে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা চাকরির বাজারে হতাশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর অন্তত ১০ লাখ ছাত্র-ছাত্রী স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করছে। যার ৪০ ভাগই চাকরির বাজারে হতাশ হচ্ছে। এর মূল কারণ পুরোনো গতানুগতিক সিলেবাস।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকের বেশি সময়ে শিক্ষা ও গবেষণার সাথে শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোনো সংযোগ বা সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়নি। পুরো বিশ্ব তথ্য প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে। এমতাবস্থায় উচ্চশিক্ষাকে অধিকতর কর্মমুখী ও যুগোপযোগী করার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এরই মধ্যে সিলেবাস সংস্কার করে তথ্য প্রযুক্তি ও ইংরেজি বিষয় স্নাতক সম্মানে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাঙামাটি সরকারি কলেজে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সবগুলো কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষা কার্যক্রম বিনিময়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে শিল্পখাতের যোগাযোগ স্থাপনের কাজ। শিক্ষার আধুনিকায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা করছে ইউনিসেফসহ খ্যাতনামা বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়।

একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে অধিভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসিমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপাচার্য কলেজ অধ্যক্ষরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি নানা ধরনের পরামর্শ ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সবার বক্তব্য ও পরামর্শ মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনায় যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা অনেক হলেও দক্ষ জনবলের সংকট প্রকট। এর বড় কারণ শিক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করা। স্বাধীনতার পর অবকাঠামো উন্নয়নে যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে শিক্ষার উন্নয়নে সেভাবে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

আরও পড়ুন

অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগেই ঠিক করেছিল

ছবি তোলা ও টিকটক তৈরি করার সূত্রে গড়ে ওঠে পরিচয়। এরপর লোভ হয় আইফোনের প্রতি। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয় পরিকল্পনা।...

আরও পড়তে পারেন

অপ্রতিমকে হত্যার ছক ৭ দিন আগেই ঠিক করেছিল

ছবি তোলা ও টিকটক তৈরি করার সূত্রে গড়ে ওঠে পরিচয়। এরপর লোভ হয় আইফোনের প্রতি। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু হয় পরিকল্পনা।...

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধ করতে ইরান প্রস্তুত আছে

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধ করতে তাঁর দেশ প্রস্তুত আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির কোনো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য আরাগচি কূটনীতির পথ খোলা রাখার পক্ষেও কথা বলেছেন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফর করেন আরাগচি। ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল। পাল্টা পদক্ষেপ নেয় তেহরান। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধের দামামা। এর পর থেকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় যুদ্ধ চলছে। সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে।

গ্রিনল্যান্ডে দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি বানাবে যুক্তরাষ্ট্র

ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে দুটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাকাপোক্ত বা ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দ্রুতই উপযুক্ত জায়গায় বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ শুরু করব। সেখানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে।’ ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির সুবাদে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সব বিষয়ের ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শুধু আমেরিকা মহাদেশ নয়, বরং ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল রক্ষায় যা করা দরকার, তা করার পূর্ণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে আসবে।