শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলন এক মাস পেরিয়েও থামেনি। রাজধানী প্যারিসে এই আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে গত এক মাসে ১ হাজার ২৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক। দেশটিতে কোনো আন্দোলন ঘিরে এত বিপুলসংখ্যক গ্রেপ্তারের নজির নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে আগামী শনিবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনকারীরা। ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, এখনো ফ্রান্সের প্রায় ২০০টি উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্দোলন চলছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মনে করেন, বিক্ষোভের ধরন বদলে গেছে। তাঁর ভাষ্য, এটি আর শুধু শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিভিন্ন এলাকায় শহুরে সহিংসতার রূপ নিচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। এ ঘটনায় আরও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। দূতাবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছে। তবে নিহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করতে কাজ চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে। রিয়াদে থাকা আরেকটি সূত্রের দাবি, ৪১ জন বাংলাদেশি ওমরাহ যাত্রীর একটি দল জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।
বিদ্যালয়গুলোর অব্যবস্থাপনা, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষার অনুপযোগী পরিবেশের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। রাজধানী প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, লিওঁ, নান্তেস ও রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতেও মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েকটি এলাকায় পুলিশ টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করেছে। কোথাও কোথাও পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। সরকারি হিসাবে মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে প্রায় দুই লাখ মানুষ অংশ নেন।
নাইজেরিয়ায় সামরিক বাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী এবং সাতজন পাইলট ও ক্রু সদস্য ছিলেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওন্দো রাজ্যে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভয়াবহ এ ঘটনায় শোক জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবু। এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট বলেন, বিমানবাহিনীর প্রধান তাকে দুর্ঘটনার বিষয়ে অবহিত করেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট। নাইজেরিয়ার বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রী ফেস্টাস কিয়ামো জানান, বিমানবাহিনীর এটিআর-৪২ মডেলের উড়োজাহাজটি বেনিন সিটি থেকে লাগোসের উদ্দেশে একটি নিয়মিত মিশনে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে উড়োজাহাজটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সামরিক অস্ত্রের ঘাটতি পূরণ ও মজুত বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য ‘স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬’ (এসএম-৬) ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ২৪.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পেন্টাগন। পাঁচ বছর মেয়াদী এই কাজটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আরটিএক্স-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ‘রেথিয়ন’-কে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে চুক্তিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
চুক্তির শর্তানুযায়ী, পাঁচ বছরের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। আক্রমণাত্মক হামলা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধ-উভয় মিশনেই এসএম-৬ ক্ষেপণাস্ত্র যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা যায়, সেই লক্ষ্যেই চুক্তিটি তৈরি করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করার চেষ্টা ঠেকানোর ঘটনাকে ‘৯/১১-এর মতো বিপর্যয়’ এড়ানোর মতো ঘটনা বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, হামলাকারীর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, উড়োজাহাজে থাকা প্রধান পাইলট হামলাকারী সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তিনি একটি ‘৯/১১-এর বিপর্যয়’ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
মরক্কোয় প্রথমবারের মতো কোনো নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ গতকাল মঙ্গলবার ফাতিমা জাহরা আল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আরব বিশ্বে প্রধানমন্ত্রী হওয়া দ্বিতীয় নারী তিনি।
মরক্কোর রাজপ্রাসাদ থেকে গতকাল এক বিবৃতিতে নতুন সরকারপ্রধান হিসেবে ফাতিমাকে নিয়োগ দেওয়ার খবর জানানো হয়। ৫০ বছর বয়সী এই নারী দেশটির নগর–পরিকল্পনামন্ত্রী ও মারাকেশ শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিজের নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন ফাতিমা মানসুরি। টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। এটি শুধু আমার জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।’
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধ করতে তাঁর দেশ প্রস্তুত আছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির কোনো সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়, সে জন্য আরাগচি কূটনীতির পথ খোলা রাখার পক্ষেও কথা বলেছেন।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথাগুলো বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সফর করেন আরাগচি।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল। পাল্টা পদক্ষেপ নেয় তেহরান। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধের দামামা। এর পর থেকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের দফায় দফায় যুদ্ধ চলছে। সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যেই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে মস্কোর শীর্ষ কূটনীতিক আলোচনার পথে বাধা সৃষ্টির জন্য ইউরোপকে দায়ী করেছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে চারজন এবং ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়া ও দেশটির দখলে থাকা এলাকায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের তথ্যমতে, ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়ায় রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে নিজেদের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দুই নারী নিহত হন।
এদিকে, সুমি শহরে রাশিয়ার আরেকটি হামলায় দু’জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
অন্যদিকে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত ও দু’জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচিত ভাষণ থেকে শুরু করে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। এসব কিছুর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আবারও জানান দিতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কিন্তু অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এক সপ্তাহে ট্রাম্পের একের পর এক কূটনৈতিক তৎপরতা দেশ–বিদেশে তাঁর সামনে থাকা সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে খুব একটা কাজে আসেনি।
ট্রাম্প যেসব সমস্যার মধ্যে আছেন, তার মধ্যে বিস্তৃত হতে থাকা ইরান যুদ্ধ অন্যতম। এর প্রভাবে প্রায় সারা বিশ্বের মতো যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়েছে। কমেছে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। কোনো কোনো মিত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। একই সময়ে চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রতিযোগিতাও আরও তীব্র হচ্ছে।
এর মধ্যে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্পের নীতির কারণে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির এই নির্বাচনে হেরে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিসর আরও সংকুচিত করতে পারে।
যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনের যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ডেটা সেন্টার এবং ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের স্থাপনায় হামলার পর প্রায় ১ লাখ পরিবার সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সংযোগ হারিয়েছে। ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রুশ হামলার পর কিয়েভ ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ইন্টারনেট সেবায় বিঘ্ন ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পরিদর্শন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং নেটওয়ার্ক পুনরায় সচল করতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। এর পরদিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আবারও কিয়েভের ইন্টারনেট অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া যায়। কয়েকটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংযোগে সমস্যা দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে রাষ্ট্রীয় সফরে আসা চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে স্বাগত জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্টরা সাধারণত সফররত বিদেশি নেতাদের হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানান। ফলে ট্রাম্পের বিমানবন্দরে গিয়ে সিকে স্বাগত জানানো একটি নজিরবিহীন কূটনৈতিক সৌজন্য
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন আজ বৃহস্পতিবার। তবে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজটি নিউইয়র্কে নামবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম।
কারণ, অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে মেয়র জোহরান মামদানি উড়োজাহাজটিকে বিমানবন্দর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন বলে আশঙ্কা ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের। ইয়েদিওথ আহরোনথ নামের ওই সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের বদলে নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ অবতরণ করতে পারে নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের কোনো সামরিক ঘাঁটি বা ওই অঙ্গরাজ্যের নিউআর্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এ ছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে খুবই কম সময় নিউইয়র্কে থাকবেন নেতানিয়াহু।
ডেনমার্কের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তির আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে দুটি বিশাল সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাকাপোক্ত বা ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠিত হবে। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দ্রুতই উপযুক্ত জায়গায় বড় সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার কাজ শুরু করব। সেখানে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে।’
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তির সুবাদে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সব বিষয়ের ওপর ওয়াশিংটনের পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকবে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শুধু আমেরিকা মহাদেশ নয়, বরং ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল রক্ষায় যা করা দরকার, তা করার পূর্ণ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে আসবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলছে নিউইয়র্কে। বার্ষিক এই সাধারণ আলোচনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রথম ভাষণ দেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তার পরই ভাষণ দেন স্বাগতিক দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ক্রম কোনো প্রথাগত নিয়ম বা বর্ণানুক্রমিক তালিকার আকস্মিক ফল নয়। বরং এটি এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী রীতি, যা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার সূচনা নির্ধারণ করে আসছে।
১৯৫৫ সালে দশম অধিবেশনে এই রীতি দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। কালেভদ্রে ব্যতিক্রম ছাড়া এই রীতি এখনো অক্ষুণ্ন রয়েছে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৫ সালের প্রথম দিকে অনেক দেশই প্রথম ভাষণ দিতে দ্বিধাবোধ করতো। সেই সময় এগিয়ে আসে ব্রাজিল।