রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র্যাগিং, শারীরিক হামলা ও জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৯৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪৯তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম। তিনি জানান, শৃঙ্খলা উপকমিটির পক্ষ থেকে র্যাগিংসহ বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হয়। পরে সভায় বিষয়গুলো বিস্তারিত পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শাস্তির ধরন হিসেবে এক শিক্ষাবর্ষ বা দুই সেমিস্টারের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত, আবাসিকতা বাতিল, ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করা এবং কঠোরভাবে সতর্ক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।
র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৪ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া জুনিয়রের ওপর সিনিয়রের শারীরিক হামলার ঘটনায় একজনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার এবং একই ধরনের অপরাধে আরও দুই শিক্ষার্থীর আবাসিকতা বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, র্যাগিংয়ের অভিযোগে বিভিন্ন বিভাগের ৭৯ শিক্ষার্থীকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে র্যাগিংয়ে জড়িত হলে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদেরও চিঠির মাধ্যমে শাস্তির বিষয়টি অবহিত করা হবে।
এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতির সিল, স্বাক্ষর ও প্যাড জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তিন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। র্যাগিং ও সিল জালিয়াতির ঘটনায় এক বছরের জন্য ছাত্রত্ব স্থগিত হওয়া ১৮ শিক্ষার্থী এবং আবাসিকতা বাতিল হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে আবাসিকতার জন্য বিবেচনা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে কোনো শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়নি; সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁদের আবাসিকতাও বাতিল করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শাস্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের জানানো হবে। যাঁদের সতর্ক করা হয়েছে, তাঁদের এটিই সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা। এরপরও কেউ র্যাগিং বা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে উপাচার্য বলেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে।
