যুক্তরাজ্যের সংসদ House of Commons-এ এক নাটকীয় ও বিরল ঘটনার জন্ম হয়েছে, যেখানে এক সংসদ সদস্যকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে Keir Starmer সরকারের একটি নিয়োগ ইস্যু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, লর্ড Peter Mandelson-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে এমপি Zarah Sultana সংসদে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলেন, তিনি এই বিষয়ে অবগত ছিলেন এবং সংসদের কাছে সত্য গোপন করেছেন।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী কোনো সদস্য অন্য সদস্যকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলতে পারেন না। এ সময় স্পিকার Lindsay Hoyle সুলতানাকে তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করতে নির্দেশ দেন। তবে তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানান।
বারবার সতর্ক করার পর স্পিকার তাঁকে ‘Naming’ করেন—যা সংসদের একটি বিরল শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া। পরে সদস্যদের ভোটে Zarah Sultana-কে পাঁচ দিনের জন্য সংসদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। এই সময় তিনি সংসদে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং তাঁর বেতনও কর্তন করা হবে।
বহিষ্কারের আগে সুলতানা বলেন, “আমি সংসদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে এসেছি, প্রধানমন্ত্রীকে তোষামোদ করতে নয়।” তাঁর এই মন্তব্য দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা Labour Party-নেতৃত্বাধীন সরকারের ওপর জনঅসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।
Zarah Sultana ২০১৯ সাল থেকে কভেন্ট্রি সাউথ আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি পূর্বে লেবার পার্টির সদস্য ছিলেন, তবে নীতিগত বিরোধের কারণে দলীয় হুইপ স্থগিত হয় এবং পরবর্তীতে দল ছাড়েন। তিনি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়োর পার্টি’-র সঙ্গে যুক্ত।
ব্রিটিশ-পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিবিদের পরিবারিক শিকড় পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মীরে।
এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের সংসদীয় ইতিহাসে বিরল একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন নয়, বরং সরকারের জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলনও।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।


