সাধারণত মানুষ তার ক্যারিয়ারের জন্য যেকোনো একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নেয়। কিন্তু জুবায়ের হোসাইনের গল্পটা প্রচলিত সব হিসাব-নিকাশের একেবারেই বাইরে। তিনি একাধারে একজন কোরআনে হাফেজ, বুয়েট থেকে পাস করা তড়িৎ প্রকৌশলী (EEE), একজন ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং বর্তমানে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী!
টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী স্কুল ও ঢাকার নটর ডেম কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ২৭৩তম স্থান অর্জন করেন জুবায়ের। সে সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন প্রকৌশল শিক্ষার প্রতি ঝোঁক থাকায় বুয়েটের ইইই (EEE) বিভাগকেই বেছে নেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কোডিং, ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ‘বিস্ত্যা সলিউশনস’ এবং ‘গ্রকস্ট্রিমে’-এর মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার ও ডেটা সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করে নিজের পেশাগত দক্ষতা প্রমাণ করেন।
তবে জুবায়েরের জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁকবদল ঘটে স্নাতকোত্তর পড়ার সময়। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণার সময় এবং ক্যানসারে এক স্বজনের মৃত্যুর পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ জন্মায়। নির্ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পড়ার তাড়না থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে ২০২০ সালে তিনি নতুন করে ও-লেভেল এবং এ-লেভেল পরীক্ষায় বসেন! দেশে ভর্তির ক্ষেত্রে নানা জটিলতা থাকায় বর্তমানে তিনি কিরগিজস্তানের ‘কিরগিজ স্টেট মেডিকেল একাডেমি’-তে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন। একই সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রযুক্তি খাতের পেশাগত কাজও।
প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই প্রবল ব্যস্ততার মাঝেও তিনি ভুলে যাননি তার ধর্মীয় শিক্ষাকে। ছোটবেলায় একটি সমন্বিত প্রতিষ্ঠানে পবিত্র কোরআন হিফজ করা জুবায়ের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল থেকে শুরু করে কিরগিজস্তানের স্থানীয় মসজিদেও নিয়মিত তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন।
ভবিষ্যতে দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি নিজস্ব একটি গবেষণাগার তৈরির স্বপ্ন দেখেন জুবায়ের হোসাইন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় থাকলে যে একই জীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানক্ষেত্রে বিচরণ করা যায়, জুবায়ের যেন তারই এক অভাবনীয় উদাহরণ!
ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে সত্যিই কি সব সীমানা পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব? আপনার মতামত কী?
সোর্স: ‘শর্ট স্টোরিজ’-এ প্রকাশিত জুবায়ের হোসাইনের সাক্ষাৎকার।








