ব্রাজিলের উপকূল থেকে বেশ দূরে সান্তা বারবারা (Santa Bárbara) নামের এক বিচ্ছিন্ন আগ্নেয়গিরির দ্বীপ। এই দ্বীপের সবচেয়ে বড় রহস্য হলো—এখানে কোনো মিঠা পানির উৎস নেই। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই পানিশূন্য দ্বীপেই ২৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দিব্যি বেঁচে ছিল একদল ছাগল! শুধু বেঁচে থাকাই নয়, তারা রীতিমতো বংশবিস্তার করে দ্বীপের রাজত্ব দখল করে নিয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, আড়াইশ বছর আগে উপনিবেশ স্থাপনকারীরা খাবারের মজুত হিসেবে এদের এই দ্বীপে ছেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনো মিঠা পানি ছাড়া এরা এত বছর টিকল কীভাবে? সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পরও বিজ্ঞানীরা কখনোই এদের পানি খেতে দেখেননি!
বেঁচে থাকার রহস্য কী? গবেষকদের ধারণা, হয়তো এরা সাগরের নোনা পানি পানে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, যা বংশপরম্পরায় তাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অথবা ‘বেলড্রোয়েগা’ (beldroega) নামের প্রচুর জলীয় অংশযুক্ত এক ধরনের স্থানীয় উদ্ভিদ খেয়েই তারা পানির অভাব মিটিয়েছে। তারা এতটাই সুস্থ আর পুষ্ট ছিল যে, গবেষকদের মতে বেশিরভাগ মা ছাগলই যমজ বাচ্চার জন্ম দিত!
তবে দ্বীপের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং স্থানীয় সামুদ্রিক পাখিদের বাঁচাতে সম্প্রতি পার্ক কর্তৃপক্ষ (ICMBio) দ্বীপ থেকে শেষ ২৭টি ছাগলকে সরিয়ে নিয়েছে। তবে এদের মেরে ফেলা হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে চরম শুষ্ক অঞ্চলে টিকে থাকার মতো নতুন প্রজাতির প্রাণী উদ্ভাবনের আশায় বিজ্ঞানীরা এখন এই ‘সুপার-সারভাইভার’ ছাগলদের নিয়ে বিস্তর গবেষণা করছেন।








