যুক্তরাজ্যের ডেভন কাউন্টির ইলফ্রাকোম্ব শহরে সম্প্রতি এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৬০ ও ৭০ বছর বয়সী এক বয়স্ক দম্পতি ট্রাফিক লাইটের পোস্টে উঠে এর উন্নত সেন্সরের তার কেটে ফেলছেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছে, কারণ তাদের এই কর্মকাণ্ডে কয়েক হাজার পাউন্ডের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
কেন তারা এমন অদ্ভুত কাজ করলেন? জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই দম্পতি ‘ব্লেড রানারস’ (Blade Runners) নামক একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বা কনস্পিরেসি থিওরিস্ট গ্রুপের সদস্য। তাদের মতে, যানজট কমানো বা পথচারীদের সনাক্ত করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিযুক্ত এই ট্রাফিক লাইটগুলো বসানো হয়নি। বরং এগুলো হলো এক ধরনের ‘ইলেকট্রনিক অ্যাসল্ট ওয়েপন’ বা মারণাস্ত্র!
তাদের কিছু অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন দাবি:
- যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি: তারা গভীরভাবে বিশ্বাস করেন, এই সিগন্যালগুলোতে অবৈধ সামরিক বা যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।
- মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি: তাদের দাবি, এই লাইটগুলো নির্দিষ্ট মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এর ফলে মানুষের হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন ক্যান্সার, অতিরিক্ত উদ্বেগ এমনকি হঠাৎ মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
- ‘সম্পূর্ণ জাগ্রত’ দাবি: এসব দাবির পক্ষে তাদের কাছে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। অনলাইনে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হলেও তারা পিছপা হতে নারাজ। নিজেদের তারা ‘ফুল্লি অ্যাওয়েক’ বা ‘সম্পূর্ণ জাগ্রত’ বলে দাবি করেছেন।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে মানুষের এমন উদ্ভট আচরণ সমাজ ও জননিরাপত্তাকে কতটা বিপদে ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি বড় উদাহরণ।








