শহরের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা নেই তো কী হয়েছে? মাথার ওপর তো বিশাল ব্রিজ আছে! চীনের গুইয়াং (Guiyang) শহরের শুইকাউসি (Shuikousi) ব্রিজের নিচের দৃশ্য দেখলে যে কেউ অবাক হতে বাধ্য। জায়গা সংকটের কারণে এই ব্রিজের নিচেই গড়ে তোলা হয়েছে আস্ত এক আবাসিক এলাকা, যেখানে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করছেন!
যে কারণে এমন অদ্ভুত প্রজেক্ট:
১৯৯৭ সালে এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের এই শহরে তখন সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানের জন্য জায়গার তীব্র অভাব দেখা দেয়। শহরের কেন্দ্রবিন্দু থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে না দিয়ে, কর্তৃপক্ষ এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেয়। ব্রিজের নিচের অব্যবহৃত জায়গাতেই তারা আবাসিক ভবন তৈরির কাজ শুরু করে। দুই বছরের মাথায় সেখানে বেশ কিছু কম ভাড়ার ভবন তৈরি হয়ে যায়।
কেমন কাটে এখানকার বাসিন্দাদের জীবন?
শব্দ ও কম্পন: মাথার ওপর দিয়ে সারাদিন গাড়ি চলার কারণে তীব্র শব্দ এবং কম্পন এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা।
ধুলোবালি: রাস্তার ধুলোবালি থেকে বাঁচার তেমন কোনো উপায় নেই।
সুবিধা: তবে এত অসুবিধার পরও এখানকার মানুষের কোনো অভিযোগ নেই! কারণ, বাসাভাড়া অত্যন্ত কম এবং শহরের ঠিক কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় যাতায়াত খুবই সহজ।
বাসিন্দাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে এই ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী ট্রাক বা লরি চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। ফলে শব্দ ও কম্পন আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। এখানকার মানুষ এখন এই শব্দ আর কাঁপুনির সাথেই নিজেদের চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমানে শুইকাউসি ব্রিজের নিচের এই আবাসিক এলাকাটিকে বিশ্বের অন্যতম অভিনব ‘আরবান প্ল্যানিং’ বা নগর পরিকল্পনার উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়।








