চট্টগ্রামের মানুষের মুখে মুখে ফেরা এক অবিশ্বাস্য গল্পের নায়ক খোরশেদ আলম। ২০০৯ সালের সেই ঘটনা আজও এই অঞ্চলের মানুষকে চমকে দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেই “মৃত খোরশেদ” ফিরে এলেন আলোচনায়, তবে এবার এক মানবিক ভালোবাসার গল্প নিয়ে।
২০০৯: মর্গ থেকে ৫ দিন পর জীবন
২০০৯ সালে লিভারের জটিলতায় ভুগে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোরশেদ আলমকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েন এবং দাফনের প্রস্তুতি শুরু হয়। নিয়মমাফিক প্রক্রিয়ার কারণে তার দেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। একদিন, দুদিন নয়, টানা পাঁচ দিন সেই মর্গের হিমঘরে পড়ে ছিল খোরশেদের তথাকথিত লাশ।
পঞ্চম দিনে যখন দাফনের জন্য তার দেহ মর্গ থেকে বের করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। লাশের মতো শুয়ে থাকা খোরশেদ হঠাৎ নড়ে ওঠেন। যারা তাকে বহন করছিলেন, তারা ভয়ে ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। মৃত মানুষ ফিরে আসেন জীবনে। তড়িঘড়ি করে তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এই অলৌকিক ঘটনার পর থেকে এলাকায় খোরশেদের নতুন পরিচয় দাঁড়িয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে আদর ও বিস্ময় মিশিয়ে ডাকতে শুরু করেন “মৃত খোরশেদ” নামে।
২০২৫: মেয়রের মানবিক হাত
বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের মানুষের মুখে মুখে এই গল্প রয়ে গেছে। সম্প্রতি সেই খোরশেদ আলমের সঙ্গে দেখা করেন চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসাইন। মেয়রের এই আন্তরিকতায় আবেগ সামলাতে পারেননি খোরশেদ; মেয়রকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি।
মেয়র শাহাদাত হোসাইন শুধুমাত্র তার প্রতি সমবেদনা জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, তিনি খোরশেদ আলমের পুনর্বাসনের জন্য নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে একটি দোকানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই মানবিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের এই পরিচিত গল্পের নায়ক আবার নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পেলেন।








