কবে উড়বে বিজয়ের নিশান

শামসুল আলম রিয়াদ

ঘুমিয়ে ছিলাম হঠাৎ একটা স্বপ্ন এ ঘুমটা ভেঙে গেলো!!
স্বপ্ন টা ছিলো এমন..,
আমি কোনো এক স্থানে দাড়িয়ে ছিলাম। চারিদিক থেকে শুধু কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে!
হঠাৎ কি যেন এসে আমার মুখে পড়লল।হাতে নিয়ে দেখি তাজা রক্ত।কিসের রক্ত এটা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ কে যেন আমার দেহতে হাত রাখলো পিছন ফিরে দেখি একটা ছোট্ট শিশু বয়স ৫-৬হবে।শিশুটির পড়নে নোংরা ছেড়া পোশাক। চুল গুলো এলো মেলো।দেখে মনে হচ্ছে অনেক অসহায় শিশুটি।তার সাথে অনেক ক্ষুদার্ত মনে হচ্ছিল। চোখে পানি শুকিয়ে গেছে শিশুটির।আমি জিজ্ঞেস করলাম কিছু বলবা ভাইয়া। তুমি এখানে একা কি করছো?
ভাইয়া, ভাইয়া।হ্যা ভাইয়া বলো কি বলবা!
ভাইয়া আমি না সারাদিন ধরে কিছু খাইনি।পানির তৃষ্ণায় গলাটা শুকিয়ে গেছে। ভাইয়া আমাকে একটু খাবার দিবেন।দেন না ভাইয়া!
শিশুটির কথা শুনে অনেক মায়া হলো আমার কাছে কিছু খাবার ছিলো সেগুলোই শিশুটিকে খেতে দিলাম।
শিশুটি অনেক তৃপ্তি করে খেলো। দেখে মনে হচ্ছে কতদিন ধরে এরকম তৃপ্তির খাবার খায় না সে।শিশুটি আমায় বলল ভাইয়া আপনিও খান।
জ্বী না ভাইয়া তুমি খাও আমি রোজা আছি তুমিই খাও।আমি বরং চেয়ে দেখি। হুম।
শিশুটির খাওয়া শেষ হতেই জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা ভাইয়া তুমি এখানে একা কি করছো?তোমার আম্মু আব্বু কি নাই?
ভাইয়া জানিনা আমি এখানে কিভাবে আসছি।আমার আম্মু কে ওরা ধরে নিয়ে গেছে। আর আমার আব্বু কে ওরা আল্লাহর বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।আম্মু বলছে আব্বু নাকি আল্লাহ বাড়ি চলে গেছে।আম্মু ও কোথায় যেন চলে গেলো ওদের সাথে।আচ্ছা ভাইয়া আল্লাহর বাড়ি কিভাবে যায়?আমিও যেতে চাই আমার একা ভালো লাগে না ভাইয়া।আমায় আল্লাহর বাড়ি পাঠিয়ে দেন ভাইয়া। দেন না!
মানে ভাইয়া তোমার কথার কোনো কিছুইতো আমি বুঝতে পারছি না।তোমার আম্মু কে কারা নিয়ে গেছে বলো আমাকে!
ভাইয়া কোথা থেকে কয়েকজন হাতে কিসব অস্ত্র নিয়ে আসছে। জানেন ভাইয়া ওরা আমার আম্মুকে অনেক কষ্ট  দিছে। আম্মু আমাকে লুকিয়ে রেখেছিলো নয়তো ওরা আমাকেও নিয়ে যেত। আচ্ছা ভাইয়া আল্লাহর বাড়ি গেলে কি আমি আম্মু আব্বু কে পাবো? বলেন না ভাইয়া।আমার যে অনেক কষ্ট  হয় ভাইয়া!
ভাইয়া এসব বলে না।তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি  না আমি।
শিশুটির সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ দেখলাম বিশাল এক আওয়াজে মনে হচ্ছে মাটি কেঁপে উঠলো।
ভাইয়া আমার ভয় লাগছে।
ভাইয়া ভয় পেয়ো না আমি আছি তো তোমার সাথে!
দেখতে পেলাম কত দূরে কোথাও যেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।
কি হচ্ছে টা কি!? কোথায় এলাম আমি!
কাউকে আশে পাশে দেখতেও পারছি না।
এইতো একজন লোক ছুটে আসছে এদিকে ওনাকেই জিজ্ঞেস করি কি হচ্ছে এখানে!
এই যে ভাই শোনেন এটা কোন স্থান। আর কি হচ্ছে এখানে চারিদিকে এত রক্ত কেন? এত কান্নার আওয়াজ কোথা থেকে ভেসে আসছে?
এটা ফিলিস্তিন।
ফিলিস্তিন নামটা শুনেই বুকটা ছ্যাত করে উঠলো। আমি এখানে।
তাহলে এটা কি সেই ফিলিস্তিন যেখানে লড়াই করছে ফিলিস্তিনিরা স্বাধীনতার জন্য!এটা কি সেই ফিলিস্তিন যে খানে হাজারো ফিলিস্তিনি নির্যাতিত হচ্ছে ইসরায়েলের কাছে।
এটা কি সেই ফিলিস্তিন যেখানে হাজার শিশুর তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে বমার আঘাতে।
হ্যা বাবা এটা সেই ফিলিস্তিন।
আচ্চা এভাবে আর কতদিন? আর কত অন্যায় সহ্য করবেন। কেন আমরা মুসলিম জাতি আজ নির্যাতিত  ইহুদিদের কাছে কেন।কেন!?
কেন আজ এই পবিত্র মাসে গাজায় হামলা কেন?!
২০০কোটি নামাজ পড়ে কিন্তু এক সাথে হাঁটে না কেউ আবাবিল কি শুধুই গল্প আজ নাকি ঈমান হয়েছে ক্ষয়।
আকাশের দিকে চেয়ে আছি আবাবিল কি আবার আসবে ফিরে নাকি আমরাই হবো আবাবিল জাগবে মুসলিম এক হবে ফিরে।
মুসলিম রাষ্ট্র গুলো এক হলে কি ইসরায়েল থাকবে!?ধ্বংস হয়ে যাবে নিমিষেই।
কিন্তু আজ আমরা মুসলিম বিশ্ব লজ্জিত। নিযার্তিত ফিলিস্তিনের পাশে দাড়ানোর সাহস নাই আজ।নিরুপায় আমরা।
রাজনৈতিক বেড়াজালের মধ্যে আজ কোনো মুসলিম দেশ আসছে না এগিয়ে ফিলিস্তিন কাছে।হয়েছে আজ ঈমানের ক্ষয়।
কাঁদছে পুরুষ, কাঁদছে নারী, কাঁদছে অবুঝ শিশু।
আযান দিতে গিয়ে কাঁদছে মুয়াজ্জিন। রক্তের হলি খেলছে ইসরায়েল। কবে হবে এর শেষ।কবে?
কবে হবে ধ্বংস ইসরায়েল।কবে পাবে মুক্তি ফিলিস্তিনবাসী।
কি করছি আমরা মুসলিম বিশ্ব!রোজ হাশরে যখন আল্লাহ প্রশ্ন করবেন একজন মুসলিম হয়ে নির্যাতিত ফিলিস্তিনবাসীদের ঘটনা শুনে কি করেছো?কি জবাব দেবো আমরা। শুধু চেয়ে দেখেছি। নিরুপায় ছিলাম আমরা।
হয়তো আজ আমরা চুপ করে আছি।কিন্তু খুব শীঘ্রই আবাবিল আসবে আল্লাহ পক্ষ থেকে সাহায্য আসবে ধ্বংস হবে ইসরায়েল। ইনশাআল্লাহ।
আমরা হয়তো একা কিছুই করতে পারবো না। পারবো না ফিলিস্তিন এ গিয়ে যুদ্ধ করতে কিন্তু আমরা পারবো ওদের জন্য দোয়া করতে।আমরা পারবো ইসরায়েলী পন্য বয়কট করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। আমরা পারবো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদ করতে।আমরা পারবে ইসরায়েলে সকল সাইবার প্রতিষ্ঠান হ্যাক করে প্রতিবাদ করতে।
আমরা চাইলেই পারি।অন্তত রোজ হাশরে জবাব দিতে তো পারবো জ্বী আমার রব আমি সাধ্য মতো চেষ্টা করেছি।
আসলে স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা ভীষন কঠিন।তার প্রমাণ ফিলিস্তিন।
অপেক্ষায় রইলাম ইসরায়েল ধ্বংস দেখার জন্য।যা খুব শীঘ্রই হবে। ইনশাআল্লাহ ফিলিস্তিন এ ও স্বাধীনতার পতাকা উড়বে।ফিলিস্তিন বাসী সহ ঘোটা মুসলিম বিশ্ব হাসবে আর কাঁদবে ইসরায়েল।বিজয়ের ধ্বনি ভেসে আসছে।বিজয়ের নিশান খুব নিকটে।ইনশাআল্লাহ।

আরও পড়ুন

বাজারে চলে এলো নতুন আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ

0
গত ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এর প্রি অর্ডার শুরু হবে এবং...

আরও পড়তে পারেন

বাজারে চলে এলো নতুন আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ

গত ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এর প্রি অর্ডার শুরু হবে এবং...

যে পাখির শরীরের লুকিয়ে আছে বিষ

দেখতে মিষ্টি হলেও এই পাখির শরীরে লুকিয়ে আছে বিষ! কালো মাথা আর কমলা-বাদামি শরীরে ঢাকা ছোট্ট সুন্দর এই পাখির নাম 'হুডেড পিটোহুই' (Hooded Pitohui)।...