Homeমতামতশিক্ষা প্রশাসনে আস্থার সংকট: দলীয়করণ নাকি মেধার পথে ফিরবে বাংলাদেশ?

শিক্ষা প্রশাসনে আস্থার সংকট: দলীয়করণ নাকি মেধার পথে ফিরবে বাংলাদেশ?

শহীদুল ইসলাম
শহীদুল ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক। দৈনিক আমারদেশ নিউজ।

বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বরাবরই সম্ভাবনার জায়গা—কিন্তু একই সঙ্গে বিতর্কেরও কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা প্রশাসনে পদায়ন নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নতুন কোনো সংকটের জন্ম দেয়নি; বরং পুরনো একটি সমস্যাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে—দলীয়করণ বনাম মেধার দ্বন্দ্ব।

সম্প্রতি একটি কথিত তালিকা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রশাসনিক পদে নিয়োগের জন্য একাধিক কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ—তালিকাভুক্তদের একটি বড় অংশ ছাত্রজীবনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হোক বা না হোক, এই আলোচনা নিজেই একটি বড় সংকেত দেয়: মানুষ এখন নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

এই প্রশ্ন নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে বিষয়টি, তা হলো আস্থা। একজন শিক্ষক, প্রশাসক বা নীতিনির্ধারক যখন তাঁর যোগ্যতার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদে বসেন—তখন সেই ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

একটি আধুনিক রাষ্ট্রে শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তক বা পরীক্ষার বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। এখানে নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ওপর। তাই এখানে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং দূরদর্শিতার কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মানোন্নয়ন। শুধু নকল রোধ বা পরীক্ষার নিয়ম কঠোর করলেই হবে না; প্রয়োজন কারিকুলামের আধুনিকায়ন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা। এসব কাজের জন্য প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যারা বিশ্বমানের শিক্ষা প্রবণতা বোঝেন এবং তা বাস্তবায়নে সক্ষম।

নতুন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল—তারা অন্তত এই জায়গাটিতে পরিবর্তন আনবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবে। কারণ শিক্ষা খাতে সংস্কার কেবল নীতির পরিবর্তন নয়, এটি মানসিকতার পরিবর্তনও।

কিন্তু যদি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়—তাহলে সেই প্রত্যাশা দ্রুতই হতাশায় রূপ নেবে। আর একবার আস্থার সংকট তৈরি হলে তা কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়।

এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো—অভিযোগগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং পরিষ্কারভাবে জনগণকে জানানো যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে হচ্ছে। স্বচ্ছতা শুধু সমালোচনা কমায় না; এটি আস্থা তৈরি করে।

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে হলে একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেব, নাকি মেধা ও দক্ষতাকে? এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের শিক্ষার মান, এবং সেই সঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎও।

বিষয় ভিত্তিক সংবাদ
যোগাযোগspot_img

সর্বাধিক পঠিত