― Advertisement ―

spot_img

যে নারী শিশুটির প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, সেই শিশুই বাঁচালেন তার স্বামীকে

কখনো কখনো জীবনের কিছু ঘটনা এতটাই অবিশ্বাস্যভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায় যে, সেগুলোকে নিছক কাকতাল বলে মেনে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। সময়ের ব্যবধান,...
Homeবৃত্তের বাইরেযে নারী শিশুটির প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, সেই শিশুই বাঁচালেন তার স্বামীকে

যে নারী শিশুটির প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, সেই শিশুই বাঁচালেন তার স্বামীকে

কখনো কখনো জীবনের কিছু ঘটনা এতটাই অবিশ্বাস্যভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যায় যে, সেগুলোকে নিছক কাকতাল বলে মেনে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। সময়ের ব্যবধান, মানুষ ও পরিস্থিতির দূরত্ব—সবকিছুকে অতিক্রম করে একটি ঘটনা যেন আবার ফিরে আসে নতুন এক রূপে।

১৯৬৫ সাল। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সেলেমের একটি সৈকত। তখন মাত্র চার বছর বয়সী রজার লসিয়ের পানিতে ডুবে যাচ্ছিলেন। ছোট্ট শিশুটির জীবনের শেষ মুহূর্ত যেন ক্রমেই কাছে চলে আসছিল। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অ্যালিস ব্লেইস নামের এক নারী।

অ্যালিস কোনো দ্বিধা না করে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি রজারকে পানি থেকে তুলে আনেন এবং তার জীবন বাঁচান। একটি শিশুর কাছে সেটি ছিল জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত—যদিও তখন রজার এতটাই ছোট ছিলেন যে, ঘটনাটির গভীরতা হয়তো বোঝার বয়সও তার হয়নি।

কিন্তু সময় থেমে থাকেনি।

এরপর কেটে যায় নয় বছর।

১৯৭৪ সালে সেই একই সৈকতে আবারও ছিলেন রজার লসিয়ের। এবার তিনি আর সেই অসহায় চার বছরের শিশু নন। বয়স তখন তেরো। সৈকতের পানিতে একটি ইনফ্ল্যাটেবল র‌্যাফটে ছিলেন তিনি।

হঠাৎ তার কানে আসে এক নারীর আতঙ্কিত চিৎকার।

কেউ পানিতে বিপদে পড়েছেন।

একজন নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছিলেন। তার স্বামী পানিতে ডুবে যাচ্ছেন।

রজার মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন। কোনো রকম দ্বিধা না করে তিনি বিপদে পড়া ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। পানিতে গিয়ে তিনি ওই মানুষটিকে ভেসে থাকতে সাহায্য করেন এবং উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছানো পর্যন্ত তাকে ধরে রাখেন।

অবশেষে উদ্ধারকারীরা এসে ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

তারপরই সামনে আসে এমন এক তথ্য, যা ঘটনাটিকে সাধারণ একটি উদ্ধারকাজ থেকে পরিণত করে অবিশ্বাস্য এক জীবনচক্রের গল্পে।

ডুবে যাওয়া সেই ব্যক্তির নাম—বব ব্লেইস

আর বব ব্লেইস ছিলেন সেই অ্যালিস ব্লেইসের স্বামী—যে নারী ঠিক নয় বছর আগে একই সৈকতে চার বছর বয়সী রজার লসিয়েরের জীবন বাঁচিয়েছিলেন।

অর্থাৎ, নয় বছর আগে অ্যালিস ব্লেইস যে শিশুটিকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, নয় বছর পর সেই শিশুই অ্যালিসের স্বামীকে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করলেন।

একই সৈকত।
একই পরিবার।
একই ধরনের বিপদ।
আর দুই ঘটনার মাঝখানে নয় বছরের ব্যবধান।

প্রথমবার অ্যালিস ছিলেন উদ্ধারকারী, আর রজার ছিলেন অসহায় শিশু। দ্বিতীয়বার পরিস্থিতি যেন অদ্ভুতভাবে উল্টে গেল—রজার হয়ে উঠলেন উদ্ধারকারী, আর বিপদে পড়লেন অ্যালিসের স্বামী।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, দ্বিতীয় উদ্ধারকাজের আগে রজার জানতেন না যে বিপদে পড়া মানুষটি সেই নারীর স্বামী, যিনি তার শৈশবে জীবন বাঁচিয়েছিলেন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই এই অসাধারণ যোগসূত্র সবার নজরে আসে।

মানুষের জীবনে কৃতজ্ঞতা কখনো কখনো প্রকাশ পায় সরাসরি নয়, বরং এমন এক পথে, যার কথা কেউ আগে থেকে কল্পনাও করতে পারে না। নয় বছর আগে অ্যালিস ব্লেইস হয়তো জানতেন না, তার করা সেই ছোট্ট মানবিক কাজটি একদিন অন্য এক জীবনের মাধ্যমে তার কাছেই ফিরে আসবে।

একটি শিশুর জীবন বাঁচানোর সেই মুহূর্তের কোনো মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। আর নয় বছর পর সেই শিশুর হাতেই যখন অ্যালিসের স্বামীর জীবন রক্ষা পায়, তখন ঘটনাটি যেন একটি পূর্ণ বৃত্ত তৈরি করে।

জীবন কখনো কখনো সত্যিই অদ্ভুত গল্প লিখে।

আর সেই গল্পের কিছু অধ্যায় এতটাই অবিশ্বাস্য যে, সেগুলো কল্পকাহিনির মতো শোনালেও বাস্তব জীবনের ঘটনাই হয়ে থাকে।