back to top
Saturday, February 28, 2026
Homeআন্তর্জাতিকস্বপ্নের শহর মিলানে বাঙ্গালীর দুর্দশা

স্বপ্নের শহর মিলানে বাঙ্গালীর দুর্দশা

ইতালিতে হঠাৎ করেই তীব্র শীত নেমে এসেছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও তুষারপাত শুরু হয়েছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা ও বরফে ঢেকে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে উত্তর ইতালির মিলান, লম্বার্ডি ও আশপাশের এলাকায় শীতের প্রকোপ বেশি। এসব অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ডিগ্রিতে নেমে যাওয়ায় রাস্তাঘাটে বরফ জমেছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। অনেক এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ‘ইয়েলো জোন’ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

তীব্র শীতের কারণে অনেক রেস্তোরাঁ, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দিনমজুর ও খণ্ডকালীন কর্মজীবীদের আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়ছে। ঠান্ডা ও তুষারের কারণে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন অনেক মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিশেষ করে মিলান ও আশপাশের এলাকায় যেসব বাংলাদেশি খোলা জায়গায় বা অস্থায়ীভাবে বসবাস করতেন, তাঁদের জন্য শীত পরিস্থিতি চরম কষ্টকর হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড ঠান্ডা, তুষারপাত ও পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রবাসীদের অভিযোগ, তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, বাড়ছে শীতজনিত রোগের আশঙ্কা। সামাজিক সংগঠন ও প্রবাসী কমিউনিটির পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আরও কয়েক দিন এই শীত পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় ইতালির স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না বের হওয়ার এবং শীত মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬-এ পাদোভা প্রদেশের সান জর্জিও দেল্লে পের্তিচে-তে ঘটেছে। পুলিশ লোকাল (পুলিজিয়া লোকালে দেল কাম্পোসাম্পিয়েরেজে) একটা অভিযান চালিয়ে একটা ছোট অ্যাপার্টমেন্ট আর তার সাথে সংযুক্ত অ্যাটিক (সাবোট্টো) থেকে ২০টা বেড খুঁজে পেয়েছে, যার মধ্যে ১৫টা অকুপাইড ছিল।
মালিক একজন বাংলাদেশি নাগরিক, যিনি নিজের কানেকশন থেকে একই দেশের লোকদের জায়গা দিতেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে মাসে ১৫০ থেকে ২০০ ইউরো করে নগদে নিতেন—কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়া, কোনো রেজিস্ট্রেশন ছাড়া। সবাই বাংলাদেশি, এবং তারা বলেছে যে এভাবেই থাকতেন।
অ্যাপার্টমেন্টটা ছোট (আসল সাইজটা ১২০ মিটারের কাছাকাছি বলা হয়েছে আগের খবরে, কিন্তু এখন নতুন রিপোর্টে স্পেসিফিক বলেনি), কিন্তু ২০ জনের মতো থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল—যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। অগ্নি নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, ভেন্টিলেশন—কোনো নিয়ম মানা হয়নি। এতে জনস্বাস্থ্য আর নিরাপত্তার বড় ঝুঁকি ছিল।
প্রতিবেশীদের অভিযোগের পর কয়েকদিন নজরদারি করে পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে ৫ জনকে সরাসরি পাওয়া যায়, কিন্তু বাকিরা হয়তো বাইরে ছিলেন।
ফলাফল:

  • অ্যাপার্টমেন্টটা অবিলম্বে খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (স্থানীয় প্রশাসন থেকে)।
  • মালিকের বিরুদ্ধে অবৈধ অ্যাকমোডেশন ব্যবসা (affittacamere abusivo), ট্যাক্স ফাঁকি, এবং সোভরাফোলামেন্টো (overcrowding) এর অভিযোগ।
  • প্রতি অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য ৫০০ ইউরো করে ফাইন আছে লোকাল রেগুলেশনে, তাই বড় অঙ্কের জরিমানা হবে।
  • ট্যাক্স এভেশনের জন্য আলাদা তদন্ত চলছে।
    স্থানীয় মেয়র দানিয়েলে কানেল্লা বলেছেন যে এরকম শোষণ আর অবৈধতা সহ্য করা যাবে না—এতে ট্যাক্স ফাঁকি হয়, মানুষের নিরাপত্তা আর মর্যাদা ঝুঁকিতে পড়ে।
    এটা ইতালিতে ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির মধ্যে হাউজিং ক্রাইসিসের একটা উদাহরণ—অনেকে লিগাল অপশন না পেয়ে এরকম রিস্কি সিস্টেমে ঢোকে, কিন্তু শেষে সবাই ঝামেলায় পড়ে।
বিষয় ভিত্তিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত