ইতালির সিসিলি দ্বীপের Agrigento শহরে পাঁচ বাংলাদেশী তরুণকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে এক ৩৯ বছর বয়সী বাংলাদেশী নাগরিকের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলছে। মামলায় সরকারি কৌঁসুলি Elettra Consoli আদালতের কাছে অভিযুক্তের ১২ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দাবি করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইতালিতে নতুন আসা বাংলাদেশী যুবকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিতেন। ভুক্তভোগীদের বয়স ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তিনি আশ্রয়, কাজের সহায়তা ও থাকার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করতেন। পরে নিজের বাসা কিংবা আশপাশের নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে।
তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি কখনও মোপেড মেরামতের কথা বলে, কখনও গাছের টব বহনের অজুহাতে, আবার কখনও খাবারের দাওয়াত দিয়ে তরুণদের ডেকে নিতেন। এরপর বলপ্রয়োগ, মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
একটি ঘটনায় অভিযুক্ত এক তরুণকে জোর করে মদ পান করিয়ে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেন বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি এক ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযুক্ত থানায় উপস্থিত হয়ে তাকে হুমকি দেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি বলেন— “ইতালিতে যে কেউ সাক্ষ্য দেবে, তাকে বাংলাদেশে নিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় পরে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থান নেয় এবং তদন্ত জোরদার করা হয়।
অভিযুক্ত বর্তমানে বিচারপূর্ব আটক অবস্থায় ইতালির কারাগারে রয়েছেন। তিনি দ্রুত বিচার পদ্ধতি (Rito Abbreviato) গ্রহণ করায় সম্ভাব্য সাজা কিছুটা কমানোর সুযোগ পেয়েছেন।
মামলার বিচারক Michele Dubini আগামী ২২ মে ২০২৬ তারিখে আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তি উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছেন।
ঘটনাটি ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের ভূমিকার প্রশংসাও করা হচ্ছে।
প্রবাসী সংগঠনগুলোর মতে, বিদেশে নতুন আসা তরুণদের নিরাপত্তা ও সচেতনতা বাড়ানো এখন জরুরি। অপরিচিত ব্যক্তির ওপর অন্ধ বিশ্বাস না করা এবং কোনো ধরনের নির্যাতন বা হুমকির মুখে পড়লে দ্রুত স্থানীয় পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


