পর্তুগালের রাজধানী Lisbon–এর রুয়া দো বেনফরমোসো এলাকাটি অনেকের কাছে এখন “বাংলাটাউন” নামে পরিচিত। এই এলাকায় বাংলাদেশী মালিকানাধীন দোকান, রেস্টুরেন্ট ও ছোট ব্যবসার সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেমন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসিন্দার অসচেতন আচরণের কারণে পুরো বাংলাদেশী কমিউনিটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গায় পচা খাবার ও বর্জ্য নির্ধারিত ডাস্টবিনের বাইরে ফেলে রাখা হচ্ছে। কোথাও দোকানের সামনে ফুটপাত দখল করে পসরা সাজানো হচ্ছে, আবার কোথাও খোলা খাবারের দোকানে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এছাড়া কিছু ভবনের ব্যালকনিতে কাপড় বা লুঙ্গি ঝুলিয়ে শুকানোর দৃশ্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় আইন অনুযায়ী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা বা ফুটপাত দখল না করা এবং খাদ্য বিক্রিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব নিয়ম উপেক্ষা করলে প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়, পরে সেটি পুরো অভিবাসী কমিউনিটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই মন্তব্য করছেন, “অভিবাসীরা এসে এলাকা নোংরা করে ফেলছে।” প্রবাসীদের একাংশের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রচার রেসিজম ও বিদেশিবিদ্বেষ বাড়িয়ে দিতে পারে।
শুধু পর্তুগাল নয়, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও বাংলাদেশী কমিউনিটিকে ঘিরে একই ধরনের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। তবে প্রবাসীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, কয়েকজনের দায়িত্বহীন আচরণের দায় পুরো কমিউনিটির ওপর চাপানো অন্যায়।
কমিউনিটি নেতাদের মতে, বিদেশে বাংলাদেশীদের ইতিবাচক পরিচয় ধরে রাখতে হলে স্থানীয় আইন মেনে চলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।


