back to top
Saturday, February 28, 2026
Homeআন্তর্জাতিক৮৮ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মালিক ইলন মাস্ক

৮৮ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার মালিক ইলন মাস্ক

বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। প্রভাবশালী বাণিজ্য সাময়িকী ফোর্বসের শীর্ষ ধনীর তালিকায় দুই নম্বরে থাকা ল্যারি পেজ থেকে মাস্কের সম্পদ দ্বিগুণের বেশি। মাস্ক এখন ৭২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের (৮৮ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি) বেশি সম্পদের মালিক।

সম্পদের পরিমাণ যখন এত বড়, তখন কয়েকটি ইয়ট, একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ কিংবা একটি পেশাদার ক্রীড়া দল কিনে ফেলা আর মাস্কের জন্য তেমন কোনো বড় ঘটনা নয়।

মাস্কের এ সম্পদের পুরোটাই নগদ অর্থ নয়, বরং বড় অংশ টেসলা ও স্পেসএক্সে তাঁর মালিকানায় থাকা শেয়ারের মূল্য।

তবে পুঁজিবাজার যেকোনো সময় অস্থির হয়ে উঠতে পারে, কোনো কারণে পুঁজিবাজারে ধস নামলে শেয়ারের মূল্য দ্রুত পড়ে যেতে পারে। তাতে রাতারাতি মাস্কের সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

মাস্কের মোট সম্পদ যদি অর্থে রূপান্তর করা হতো, তবে তা দিয়ে ঠিক কী কী কেনা সম্ভব হতো তা দেখে নেওয়া যাক:

যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো কাউন্টির সব বাড়ি কিনে নিতে পারবেন

বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ইলন মাস্কের মোট সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত আবাসন বাজার হিসেবে পরিচিত সান ডিয়েগো কাউন্টির প্রতিটি আবাসিক সম্পত্তি কেনার জন্য যথেষ্ট।

আরেকটু বড় করে ভাবলে, তাত্ত্বিকভাবে হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের সব বাড়ি কিনে ফেলা সম্ভব। এ অঙ্গরাজ্যে মোট ৫ লাখ ৭২ হাজার ৭৮১টি বাড়ি রয়েছে।

আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো, মাস্ক ৭১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার দিয়ে পুরো মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের সব আবাসিক সম্পত্তি-শহর, উপশহর, উপকূলসহ সব কিনে নিতে পারবেন।

এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে যত নতুন গাড়ি বিক্রি হয় সব কেনা যাবে

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক কোটি নতুন গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এসব গাড়ির মোট দাম মাস্কের মোট সম্পদের তুলনায় কম। তাই তাত্ত্বিকভাবে বলা যায়, মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে বিক্রি হওয়া প্রতিটি নতুন গাড়িই কিনে নিতে পারবেন।

অভিজাত আইভি লিগের সব প্রতিষ্ঠান একাধিকবার কেনা সম্ভব

যুক্তরাষ্ট্রের আইভি লিগের আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—হার্ভার্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন, কলাম্বিয়া, ব্রাউন, ডার্টমাউথ, কর্নেল ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। এই আট বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশটির সবচেয়ে অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলা হয়।

আইভি লিগের প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার। অর্থাৎ তাত্ত্বিকভাবে মাস্ক চাইলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিনবার কিনতে পারবেন এবং এরপরও তাঁর সম্পদ অবশিষ্ট থাকবে।

‘কেনা যাবে সুইজারল্যান্ড’

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষ ১০–এ আছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলার। মাস্কের মোট সম্পদের বর্তমান আর্থিক মূল্য এর প্রায় কাছাকাছি। সেই অর্থে মাস্ক চাইলে প্রতীকী অর্থে ধনী দেশটি একরকম কিনে নিতে পারবেন।

কিনতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তিন জ্বালানি কোম্পানি

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় তিন জ্বালানি কোম্পানি এক্সনমবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপস। তাত্ত্বিকভাবে এই তিন কোম্পানি একসঙ্গে কিনতে পারবেন মাস্ক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান ক্রীড়া লিগ কেনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চারটি পেশাদার ক্রীড়া লিগ মেজর লিগ বাস্কেটবল (এমএলবি), ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ), ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (এনএফএল) ও ন্যাশনাল হকি লিগ (এনএইচএল)। এই চারটি পেশাদার লিগের সব দল কিনতে পারেন ইলন মাস্ক। এরপরও তাঁর কাছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার অবশিষ্ট থেকে যাবে।

একালে অতিধনী হওয়ার যত মাইলফলক আছে, ইলন মাস্ক সেগুলো খুব দ্রুত অতিক্রম করে যাচ্ছেন। আধুনিক ইতিহাসে আর কেউ এত দ্রুত, এত প্রকাশ্যে বা এত দৃশ্যমানভাবে এত সম্পদের মালিক হননি।

মাস্ক ওপরের সম্পদগুলো কিনবেন, নাকি কিনবেন না, এখানে সেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তিনি খুব সম্ভবত এগুলো কিনতেই চাইবেন না। বরং এখানে দেখার বিষয়, একজনের সম্পদের পরিমাণ এত বেশি যে তাঁর সম্পদের সঙ্গে একটি পুরো অঞ্চল, শিল্প, প্রতিষ্ঠান বা দেশের তুলনা করা হচ্ছে। এটা শুধু কোনো ব্যক্তির সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটা এমন এক অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বলছে, যে প্রবণতা চলতে থাকলে একটি দেশের সরকারের নীতি, শ্রমবাজার ও সরকারের ক্ষমতার ওপর ধনীদের প্রভাব আরও বেড়ে যাবে।

বিষয় ভিত্তিক সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত