এমিলি ন্যাশ পৃথিবীর ১০০ জন বিরল মানুষের একজন

কানাডীয় তরুণী এমিলি ন্যাশ বিরল হাইলি সুপিরিয়র অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমোরির (এইচএসএএম) জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান ২০২৪ সালে। সারা পৃথিবীতে তার মত আনুমানিক ১০০ জন মানুষ আছে। যারা জীবনের যে কোনো সময়ের যে কোনো দিনের যে কোনো স্মৃতি হুবহু মনে করতে পারে। এমনকি সেই সময় তার অনুভূতি কেমন ছিল তাও মনে করতে পারে। ধারণা করা হয়, সারা বিশ্বের ৮০০ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৬০ থেকে ১০০ জন এই ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন। অর্থাৎ বিশ্বে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে আট কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র একজন এইচএসএএম আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁদের মধ্যে এমিলি ন্যাশ বয়সে সবার ছোট। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ‘কন্ডিশন’ বা শারীরিক পরিস্থিতিটির নাম হাইলি সুপিরিয়র অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমোরি (এইচএসএএম) বা হাইপারথাইমেসিয়া। হাইপারথাইমেসটিক সিনড্রোমও বলা হয় একে।

এমিলি ন্যাশ কানাডীয় তরুণী। বিরল ক্ষমতাটির জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান ২০২৪ সালে। সে বছর ১৮ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার ‘নাইন নেটওয়ার্ক চ্যানেল’–এর জনপ্রিয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতামূলক টক শো ‘সিক্সটি মিনিটস’–এ অতিথি হয়ে আসেন এমিলি।

সাংবাদিক তারা ব্রাউনের প্রশ্নের উত্তরে এমিলি বলেন, ‘আমার মস্তিষ্ক অনেকটা ক্যালেন্ডারের মতো। আমি চাইলে পেছনে গিয়ে যেকোনো দিনে ঢুঁ মারতে পারি। তখন সেই দিনের সব ঘটনার বিস্তারিত আমার মাথার ভেতর ছবির মতো ফুটে ওঠে। সব স্পষ্ট দেখতে পাই।’

তারা ব্রাউন পরীক্ষা করার জন্য বেশ কিছু প্রশ্ন করেন। এমিলি প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেন।
এমিলি ন্যাশের মতো আরও তিনজন

জিল প্রাইস: ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম। এইচএসএএম নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণার প্রথম শনাক্ত ব্যক্তি। তিনি জীবনের প্রায় প্রতিটি দিনের ঘটনা তারিখসহ মনে রাখতে পারেন। তাঁর ওপর ভিত্তি করেই এইচএসএএম নিয়ে আধুনিক গবেষণা শুরু হয়। জিল প্রাইস বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়াসংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিভাগে কর্মরত।

বেকি শ্যারক: অস্ট্রেলিয়ার এই নারী একেবারে শৈশবের স্মৃতিও স্পষ্ট মনে করতে পারেন। তিনি দাবি করেন, এক বছর বয়সের আগের ঘটনাও তাঁর মনে আছে। বেকির জন্ম ১৯৯০ সালের মার্চে। তাঁকে নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় গবেষণা চলমান।

ব্র্যাড উইলিয়ামস: কোনো তারিখ বললে তিনি সেদিনের খবর, ব্যক্তিগত ঘটনা এবং ঐতিহাসিক তথ্য একসঙ্গে বলতে পারেন। তাঁকে নিয়েও গবেষণা চলছে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায়।

স্বাভাবিকভাবেই হাইপারথাইমেসিয়াকদের ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত গোপন রাখা হয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক জীবনের স্বাভাবিকতা যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য কেউ কেউ নিজের এই ক্ষমতার কথা কখনোই প্রকাশ করেন না। কেননা সারা বিশ্বই তাঁদের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী।

এমনকি তাঁদের ব্যবহার করে ব্যবসায়িক কাজ বা অপরাধ ঘটানোও কঠিন নয়। তাই নিরাপত্তাজনিত কারণে ও গবেষণা চলমান থাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত এবং এই রোগের বিস্তারিত নানা দিক নিয়ে খুব বেশি জানার সুযোগ থাকে না।

সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ

আরও পড়ুন

চার্লসের কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে

চার্লসের কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ডায়ানার মৃত্যুর কদিন পর চার্লস বলেছিলেন, মানুষ ‘খুব শিগগির’ তাঁকে ভুলে যাবে

আরও পড়তে পারেন

চার্লসের কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে

চার্লসের কথা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ডায়ানার মৃত্যুর কদিন পর চার্লস বলেছিলেন, মানুষ ‘খুব শিগগির’ তাঁকে ভুলে যাবে

কাজের মাঝে হুট করে ঘুম পাচ্ছে? তাৎক্ষণিক ঘুম কাটানোর কিছু অদ্ভুত কিন্তু কার্যকরী উপায়!

অফিসে জরুরি কাজ করছেন বা সামনে পরীক্ষা, কিন্তু কিছুতেই চোখের পাতা খোলা রাখতে পারছেন না? কফি বা চা খাওয়ার সুযোগ না থাকলে এই সহজ...

অনলাইনে নাগরিকের তথ্য বিক্রি উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা

একজন নাগরিকের পরিচয়, মুঠোফোন নম্বর, জন্মতারিখ, ঠিকানা, কার সঙ্গে কখন কথা বলেছেন, কোথায় অবস্থান করছেন, এমনকি তার আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ব্যক্তিগত। এসব তথ্য নিরাপদ...