রাস্তার ইফতারি থেকে পেট খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
গরম ও রোদের তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়রিয়া বা পেট খারাপের প্রকোপ বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়।
সঙ্গে যদি ডায়রিয়া যুক্ত হয়, তাহলে অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “রোজায় পেট খারাপ প্রতিরোধ করা প্রতিকারের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি। ইফতারে কী খাচ্ছেন, কীভাবে খাচ্ছেন— এসবের ওপরেই নির্ভর করে রোজার দিনগুলো সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক কাটবে কি-না!”
ডায়রিয়ার জীবাণু— ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস বা প্রটোজোয়া— সাধারণত পানি ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই খাবার তৈরির আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। খাবার অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে।
বাসি বা পুরানো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ইফতারে খোলাবাজার বা রাস্তার পাশের খাবার এড়িয়ে চলাই উত্তম। রাস্তার খাবারে মাছি-কীটপতঙ্গ বসে, একই তেলে বারবার ভাজা হয় এবং খালি হাতে প্যাকেট করা হয়। ফলে রোগজীবাণু বেশি থাকে।
“মেয়াদোত্তীর্ণ বা বাসি খাবার, মাছি বসা খাবার, দূষিত পানি দিয়ে তৈরি শরবত—এসব ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ”-
ঘরের খাবারও যদি ছয়-সাত ঘণ্টা ফ্রিজের বাইরে থাকে, তাহলে গরমে নষ্ট হয়ে ব্যাক্টেরিয়া বেড়ে যায়।
খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে হাত না ধোয়া, থালা-বাটি পরিষ্কার পানিতে না ধোয়া, কাঁচা ফল-সালাদ-শাকসবজি ঠিকমতো না ধোয়া, মাছ-মাংস সঠিক তাপমাত্রায় না রান্না করা— এসব থেকেও রোগজীবাণু দেহে যেতে পারে।
“পঁচা বা বাসি খাবার গরম করে খেলেও বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে”- মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।
ইফতারে অনেক রকম খাবার একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়। পরিমিত পরিমাণ খাবার কয়েকবারে খেলে হজমে সুবিধা হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।
ডা. নয়ন পরামর্শ দেন, “ইফতার শুরু করুন খেজুর ও পানি দিয়ে। এরপর হালকা স্যুপ, দই-চিড়া বা ফল খান। ভারী খাবার একবারে খেলে হজমের সমস্যা হয়। ডায়রিয়া হলে পানিশূন্যতা দ্রুত বেড়ে যায়। তাই বেশি বেশি তরল খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের জুস বা শরবত পান করুন। ডায়াবেটিস থাকলে চিনি ছাড়া ফলের জুস গ্রহণ করতে হবে।”
ডায়রিয়া হলে তরল ও সহজপাচ্য খাবার বেছে নিতে হবে। স্যুপ, চিড়া বা চিড়া ভেজানো পানি, ভেজানো নরম সাগুদানা, ঘরে পাতা দই, নরম ভাত বা জাউভাত, আলু-পেঁপে-কাঁচকলা সেদ্ধ, মাছের ঝোল, কম মসলায় মুরগির মাংস, সালাদ ও ফল খাওয়া হবে উপকারী। এগুলো পানি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে।
“যদি রোগী মুখে খেতে না পারে, পানিশূন্যতা বেশি হয়, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়, রক্তচাপ কমে যায়, প্রস্রাব কমে বা বন্ধ হয়ে যায়, বারবার বমি হয়, প্রচণ্ড পেটব্যথা হয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায় বা অনেক তরল যায়— তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যান। এক্ষেত্রে শিরায় স্যালাইন দিতে হবে”- বলেন ডা. নয়ন।
অনেকে দ্রুত পায়খানা বা বমি বন্ধ করতে ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খান। আবার একটু ভালো হলেই ওষুধের ডোজ অসম্পূর্ণ রেখে বন্ধ করেন। এটা একদম করা যাবে না।
অ্যান্টিবায়োটিক সব ডায়রিয়াতে কাজ করে না; বরং কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা দীর্ঘমেয়াদি করে। তাই পানিশূন্যতা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।
প্রতিবার টয়লেটের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেতে হবে।
রোজা রেখে দিনের বেলা ডায়রিয়া হলে রোজা ভেঙে মুখে খাওয়ার স্যালাইন নিতে হবে। নয়তো পানি ও লবণশূন্যতার ঝুঁকি থাকে।
রোজায় পেট খারাপ প্রতিরোধই প্রধান। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে রমজান সুস্থ ও আনন্দময় কাটবে।

