মা! মা! ও মা!
উঠো, দেখো সেহরির সময় হয়ে গেছে। এরপর কিন্তু দেরি হয়ে যাবে তখন আমরা রোজা রাখতে পারবো না।
মা: এখনো ২টা বাজে আরও সময় আছে মা। তুমি ঘুমাও আমরা উঠার সময় তোমাকে ডেকে দিবো কেমন! এখন ঘুমাও। ( এ বলে পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে) কিন্তু খুকি আর ঘুমায় না। যদি মা তাকে না ডাকে সে-তো রোজা রাখতে পারবে না।
আজ খুকির প্রথম রোজা। খুকির বয়স সাত বছর। সে অনেক খুশি রোজা রাখবে বলে। তার খেলার সাথীরা গতবছর দুটি করে রোজা রেখেছিলো। খুকি রোজা রাখেনি বলে সবাই ওকে কতইনা ক্ষেপালো। এ কারণে খুকি খুব কেঁদেছিল। এ বারে সেও রোজা রাখবে আর ওদেরকে বলবে সেও তাদের মতো রোজা রেখেছে।
খুকি খাটে বসে বসে শুধু ভাবছে কখন সেহরির সময় হবে, কখন সে সেহরি খাবে! কিছুক্ষণ পর সে আবারও মাকে ডাকলো, মা উঠো। এখন সময় হয়েছে দেখো।
মা: না মা আরও সময় আছে তুমি ঘুমাও, আমি তোমাকে ডেকে দিবো।
খুকি এবার নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়লো। একটু পরেই গভীর ঘুমে নিমজ্জিত সে। আসলে সে জেগে ছিলো ঠিকই কিন্তু তার ঘুম ঘুম ভাব ছিলো বেশি।
সময় সাড়ে তিন টা। খুকির মা খুকিকে ঘুম থেকে ডেকে দিচ্ছে-
মা: মা উঠো, সেহরির সময় হয়েছে। আমরা সবাই উঠে পড়েছি মা। তুমিও উঠো সেহরি খাবে তো।
খুকি তখন হম্বিতম্বি হয়ে লাফ দিয়ে উঠে পড়ে- মা এই দেখো আমি উঠে গেছি। তোমরা কি আমাকে ছাড়া সেহরি করে ফেলেছ?
মা হাসি মুখে বলে উঠে- না মা আমরা একসাথে খাবো তুমি গিয়ে মুখ ধুয়ে আসো।
আচ্ছা মা বলেই খুকি দৌঁড় দিলো এবং খুব তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে চলে এলো।
মা ডাইনিং টেবিলে রান্না করা সব খাবার নিয়ে এলো। খুকি একটি চেয়ারে গিয়ে বসে পড়লো।তারপর- মা আমাকে ভাত দাও আমি খেয়ে ফেলি নয়তো আজান দিয়ে দিবে। তখন আর খেতে পারবো না।
মা খুকির দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে, তাকে প্লেটে খাবার দিলো। ততক্ষণে সবাই টেবিলে চলেই এলো। খুকি কোনো কথা বলছেনা চুপচাপ খেয়ে নিচ্ছে। আর একটু তাড়াহুড়ো করছে তা দেখে তার দাদু বলে-
দাদু ভাই এভাবে খেয়ো না গলায় আটকে যাবে আরও অনেক সময় আছে তুমি আস্তে আস্তে খাও।
খুকি দাদুর দিকে তাকিয়ে হাসি দিলো। এরপর আস্তে আস্তে খেতে লাগলো। খাওয়া শেষে খুকি সোফায় বসেছিলো আজানের অপেক্ষায়। সবাই খুকিকে এভাবে বসে থাকতে দেখে অবাক হলো। ওর বাবা জিজ্ঞেস করলো-
কি হয়েছে আমার মামুনির! এভাবে বসে আছে কেন?
-বাবা আজান দিচ্ছে না কেনো?
আজান কখন দিবে?
-একটু পরে দিবে মা।
-আচ্ছা মা আজান দিলে আমি তোমার সাথে নামাজ পড়বো। ঠিক আছে?
(মা মুচকি হাসি দিয়ে বললো) ঠিক আছে মা।
আজান দিতেই খুকি তার মা এর সাথে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়লো। কায়দা পড়লো। এরপর ঘুমিয়ে পড়লো।
সকাল ১০টায় খুকি ঘুম থেকে উঠে। উঠে সে পাশে তাকালো দেখলো তার মা নেই। সে উঠে বাইরে গেলো দেখলো তার মা কাপড় শুকাতে দিচ্ছে। খুকি দেখে মা বললো – ঘুম হয়েছে মা?
(খুকি মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ বললো)
খুকির দু’জন খেলার সাথী রিনি ও মিতা আসলো খুকিকে খেলতে ডাকতে রিনিদের বাসায়।
খুকি মাকে বলে ওদের সাথে খেলতে গেলো। ওরা দুজনেই বলে উঠে, আমরা দুজনে রোজা রেখেছি। খুকি তুই রোজা রাখলি?
খুকি- হ্যাঁ আমিও রোজা রেখেছি।
সবাই খুশি মনে একসাথে বসে খেলতে লাগলো। যোহরের আজান দিতেই খুকি বলে, আমি যাই, আজান দিয়েছে মা এর সাথে নামাজ পড়তে হবে। এ বলে খুকি চলে এলো।
খুকি বাড়িতে এসে দেখে ওর মা ওযু করে নামাজ পড়তে যাচ্ছে।
খুকি- মা দাঁড়াও আমিও ওযু করে আসছি। তোমার সাথে নামাজ পড়বো।
মা- ঠিক আছে মা,আয়।
(তারপর দুজনে নামাজ পড়ে নিলো)
মা উঠে রান্নাঘরে চলে গেলো। খুকি মা এর পিছনে পিছনে গেলো বললো – মা আমি তোমাকে সাহায্য করি?
মা- না মা তুমি গিয়ে ঘুমাও কিছুক্ষণ। আমি আসরের আজান দিলে ডেকে দিবো। তখন নামাজ পড়ে আমাকে সাহায্য করিও।
খুকি তখন রুমে চলে গেল এবং ঘুমিয়ে পড়ল। আসরের আজান দিতেই মা খুকিকে ডেকে দিলো এবং দুজনে একসাথে নামাজ পড়ে নিলো। খুকি মাকে ইফতার রেডি করতে এটা ওটা এগিয়ে দিয়ে সাহায্য করছিলো। মা বারবার খুকিকে হাসি দিয়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। ইফতার রেডি করে সবগুলো টেবিলে নিয়ে আসা হলো। খুকি খুব খুশি আজ খুকির পছন্দের সব করেছে তার মা। কিন্তু এখনো আজান দিচ্ছে না দেখে খুকি মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কারণ খুকির খুব ক্ষুধা পেয়েছে। মা বুঝতে পেরে খুকিকে কাছে টেনে নিয়ে বললো – মা আর কিছুক্ষণ তারপর আজান দিবে খুকি ইফতার করবে। আর খুকির একটা রোজা হয়ে যাবে।
কিছুক্ষণ পর আজান দেয়। খুকি ইফতার করে তারপর মাগরিবের নামাজ পড়ে মায়ের সাথে। খুকি আজ খুব খুশি তার একটি রোজা হলো।
উম্মে সালমা
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ।


