যুক্তরাজ্যের হ্যাকনি এলাকার এক লেবার কাউন্সিলর পুনর্নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার পর দল ত্যাগ করে গ্রীন পার্টি অব ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস এ যোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার সঙ্গে দলীয়ভাবে “প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ” করা হয়েছে।
ব্রাউনসউড ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোরাইয়া আদেজারে বুধবার (৪ মার্চ) কাউন্সিলের বাজেট বৈঠকে লেবার পার্টির বিপক্ষে গিয়ে গ্রিন পার্টির বিকল্প বাজেটের পক্ষে অবস্থান নেন। সেখানেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিন দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন।
বাজেট বিতর্কে আদেজারে বলেন, গত এক দশক ধরে তিনি এলাকার জন্য বেশি অর্থায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বর্তমান বাজেট নীতিতে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে না। তার ভাষায়, বর্তমান বাজেট পদ্ধতিকে সমর্থন করা তার কাছে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ বছর কাউন্সিলে কাজ করার সময় সাম্প্রতিক এক কঠিন সময়ে—মায়ের মৃত্যুতে শোকাহত থাকার পাশাপাশি—দলের ভেতরে তিনি “এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ” অনুভব করেছেন।
এদিকে হ্যাকনির মেয়র ক্যারলিন উডি আদেজারের এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দেন, তার কাছ থেকেই তিনি “ভীষণভাবে হতাশ” হয়েছেন।
জবাবে আদেজারে বলেন, কাউকে তিনি হতাশ করেননি; বরং দলই তাকে হতাশ করেছে।
২০১৪ সালে প্রথমবার লেবার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়া আদেজারে গত বছর পুনর্নির্বাচনের জন্য দলের সাক্ষাৎকারে ব্যর্থ হওয়ায় মনোনয়ন হারান। তার দাবি, ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব শুনতে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার কারণেই তাকে পরবর্তীতে প্রার্থী হতে বাধা দেওয়া হয়।
বাজেট অধিবেশনে শেষ পর্যন্ত হ্যাকনি কাউন্সিল ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস করে। এতে কাউন্সিল ট্যাক্স সর্বোচ্চ ৪.৯৯ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড ব্যয় কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
গ্রিন পার্টির স্থানীয় নেত্রী জোয়ী গার্বেট আদেজারের যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি প্রমাণ করে যে হ্যাকনির মানুষ এমন প্রতিনিধিকে চান, যারা শুধু দলীয় নির্দেশ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের স্বার্থের পক্ষে দাঁড়াবে।
তবে আগামী ৭ মে স্থানীয় নির্বাচনে আদেজারে কোন ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হবেন কি না—এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি গ্রিন পার্টি।


