সঙ্গে পানি রাখা, কড়া রোদে না বেড়ানো ছাড়াও নানান ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
এবারের ঈদে গরমের তীব্রতা বেশি থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে— এই সময় ভ্রমণে পানিশূন্যতা, রোদে-পোড়া, ঠাণ্ডা-জ্বর-কাশির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঈদের ছুটিতে ভ্রমণ মানে আনন্দ। তবে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই আনন্দ নষ্ট হয়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি, হালকা পোশাক, সানস্ক্রিন, ওষুধ— এই সহজ প্রস্তুতিগুলো নিলে ছুটির ভ্রমণ হবে সুস্থ, নিরাপদ ও আনন্দময়।
যাত্রাপথে সতর্ক থাকা, নিজের ও সঙ্গীদের যত্ন নেওয়াতে— ঈদের আনন্দ অটুট থাকবে।
সেন্টমার্টিন ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি বলেন, “গরমের সময় ভ্রমণে বন-জঙ্গল এড়িয়ে চলুন, ট্রেকিং বা দীর্ঘ হাঁটার পরিকল্পনা না করাই ভালো। পানিশূন্যতা এড়াতে সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার রাখুন। আরামদায়ক পোশাক ছাড়া বের হবেন না।”
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন পরামর্শ দেন, “গরম আবহাওয়াতে ভ্রমণে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঠাণ্ডা-জ্বর-কাশি, বমি, পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ব্যাগে জ্বর-কাশির ওষুধ, স্যালাইন, গ্যাসের ওষুধ রাখুন।”
ভ্রমণের আগে যা যা সঙ্গে রাখবেন
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার: দিনে কমপক্ষে তিন-চার লিটার পানি পানের অভ্যাস গড়তে হবে। সঙ্গে লেবুর শরবত, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি বা ফলের জুস রাখা উপকারী।
গরমে ঘামের সঙ্গে লবণ-খনিজ বেরিয়ে যায়— পানিশূন্যতা এড়াতে এগুলো জরুরি।
আরামদায়ক, হালকা পোশাক: সুতির হালকা, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে, যাতে ঘাম শোষণ হয় ও শরীর ঠাণ্ডা থাকে।
টুপি, স্কার্ফ বা ছাতা রাখা উচিত রোদ থেকে বাঁচতে।
“সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন অবশ্যই সঙ্গে রাখুন— সানবার্ন এড়াতে”- বলেন ডা. নয়ন।
ওষুধ ও স্বাস্থ্যসামগ্রী: ডা. নয়ন বলেন, “জ্বর-কাশির ওষুধ, প্যারাসিটামল, অ্যান্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন, স্যালাইন, বমির ওষুধ সঙ্গে রাখা উচিত। ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম, প্লাস্টারও সঙ্গে রাখুন। হ্যান্ডওয়াশ, ফেইসওয়াশ, ওয়েট টিস্যু, রুমাল বা গামছা রাখুন মুখ-গলা-ঘাড় মোছার জন্য।”
চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক: মোবাইল, পাওয়ার ব্যাংক, চার্জার সঙ্গে রাখুন। গরমে ফোন গরম হয়ে দ্রুত চার্জ শেষ হয়— পাওয়ার ব্যাংক জরুরি।
অন্যান্য জরুরি জিনিস: ছোট তোয়ালে, সানস্ক্রিন, সানগ্লাস, টুথব্রাশ-পেস্ট, সাবান। শিশু থাকলে তার ওষুধ, খেলনা, স্ন্যাকস রাখতে হবে।
যা এড়িয়ে চলবেন
- বন-জঙ্গলে ট্র্যাকিং বা দীর্ঘ হাঁটা এড়ান— পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি।
- ভারী খাবার এড়ান— হালকা, সহজপাচ্য খাবার খেতে হবে।
- রোদে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না— ঘুরলেও ছায়াতে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে ভ্রমণে গেলে।
- অতিরিক্ত ভিড়ের জায়গা এড়ান— যানজটে গরমে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।


