মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি বৈদেশিক কর্মসংস্থানের বাজার নয়; এটি লাখো পরিবারের স্বপ্ন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম পথ এবং হাজার হাজার মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত। সেই বাজার যখনই খুলেছে, তখনই একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগটি কি সত্যিই শ্রমিকের জন্য উন্মুক্ত, নাকি মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সীমিত গোষ্ঠীর জন্যই তা সবচেয়ে লাভজনক?
দুঃখজনকভাবে, অতীতের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নের উত্তরকে খুব আশাব্যঞ্জক করে না।
২০২২ সালে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য আবার খুললে সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সেই ব্যবস্থা নিয়ে ওঠে নানা অভিযোগ—অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, ভিসা ও চাহিদাপত্রের বাণিজ্য এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ।
২০২৪ সালের মে মাসে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। BMET-এর হিসাবে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৪২ জনকে মালয়েশিয়া যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হলেও ৩১ মে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন যেতে পেরেছিলেন। অর্থাৎ প্রায় ১৬ হাজার ৯৭০ জন কর্মী যেতে পারেননি। পরে সরকারি তদন্তে প্রায় ১৭ হাজার কর্মীর না যেতে পারার ঘটনায় ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সির দায়ের কথা বলা হয় এবং তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এটি নিছক একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল না। এর পেছনে ছিল মানুষের জীবনের সঞ্চয়।
৭৯ হাজার টাকার জায়গায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার
মালয়েশিয়া যাওয়ার সরকারি নির্ধারিত ব্যয় আর বাস্তবে একজন শ্রমিককে কত টাকা দিতে হয়েছে—এই দুইয়ের ব্যবধানই সম্ভবত পুরো সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে Prothom Alo জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের একটি জরিপে মালয়েশিয়ায় যেতে একজন শ্রমিকের গড় ব্যয় প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা পাওয়া যায়, যেখানে সরকার নির্ধারিত ব্যয় ছিল ৭৯ হাজার টাকা। একই প্রতিবেদনে প্রায় ১০০টি এজেন্সিকে নিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠে আসে।
অর্থাৎ সমস্যা শুধু ‘কতজন এজেন্সি কাজ করবে’—এতটা সরল নয়। আসল প্রশ্ন হলো, কোন ব্যবস্থায় একজন শ্রমিকের প্রকৃত অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে?
কারণ এজেন্সির সংখ্যা কমিয়ে দিলে যদি প্রতিযোগিতা কমে যায়, তাহলে সেই সুযোগের মূল্য শেষ পর্যন্ত কে দেবে? উত্তরটি খুব কঠিন নয়—শ্রমিক। একজন কৃষক জমি বিক্রি করেন, একজন নিম্নমধ্যবিত্ত বাবা ধার করেন, কেউ সঞ্চয় ভাঙেন, কেউ সুদে টাকা নেন—শুধু বিদেশে গিয়ে কয়েক বছর কাজ করে পরিবারকে একটু ভালো রাখবেন বলে। এই মানুষটির কাছ থেকে যদি সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের কয়েক গুণ টাকা নেওয়া হয়, তাহলে বিদেশে পৌঁছানোর আগেই তার ভবিষ্যৎ আয়ের বড় অংশ বিক্রি হয়ে যায়।

পুরনো ব্যবস্থার ছায়া কি আবার ফিরছে?
এখানেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার FWCMS-এ সম্প্রতি বাংলাদেশি ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম প্রকাশিত হয়েছে। তালিকায় রয়েছে Bangladesh One Overseas, Bengal Human Resources Development, Earth-Smart Bangladesh, Chandpur International, Mangrove Career Link-সহ মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন।
এই ২৫টি প্রতিষ্ঠানই যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব মালয়েশিয়াগামী শ্রমিক পাঠাবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। FWCMS-এর তালিকা প্রকাশিত হলেও কীভাবে নিয়োগ হবে, চাকরির চাহিদাপত্র কীভাবে বণ্টিত হবে এবং অন্য বৈধ এজেন্সিগুলো কীভাবে অংশ নেবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। তবু প্রশ্নটি উঠবেই।
বাংলাদেশে যদি দুই হাজারের বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি থাকে, তাহলে কেন একটি নতুন শ্রমবাজার খোলার প্রাথমিক পর্যায়েই সুযোগ সীমিত থাকবে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে? এটি যদি কেবল প্রশাসনিক বা কারিগরি কারণে অস্থায়ী তালিকা হয়, তাহলে সরকারের উচিত তা পরিষ্কারভাবে বলা। আর যদি এই ২৫টি প্রতিষ্ঠানই কার্যত শ্রমবাজারের প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি হবে পুরনো সমস্যাকে নতুন নামে ফিরিয়ে আনার ঝুঁকি।
আমিনুল ইসলাম: প্রশ্নটি ব্যক্তিকে নিয়ে নয়, কাঠামো নিয়ে
এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম Datuk Seri Aminul Islam Abdul Nor। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মালয়েশিয়ান ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম Bestinet-এর প্রতিষ্ঠাতা। Bestinet পরিচালিত FWCMS মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ-প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম।
তাঁকে ঘিরে বাংলাদেশে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তাঁকে ও তাঁর সহযোগী রুহুল আমিনকে আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। অভিযোগের মধ্যে ছিল অর্থপাচার, চাঁদাবাজি ও অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে অনিয়ম। তবে আমিনুল ইসলাম ও রুহুল আমিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
২০২৬ সালের জুনে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, বাংলাদেশ থেকে আমিনুল ইসলামকে প্রত্যর্পণের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন মালয়েশিয়া তখনও পায়নি।
অর্থাৎ এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: অভিযোগ থাকা আর আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
কিন্তু একজন ব্যবসায়ীকে ঘিরে এত গুরুতর অভিযোগ থাকলে এবং তাঁর প্রতিষ্ঠান যখন বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেই বৈঠক
এই প্রশ্নকে আরও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে Bloomberg-এর একটি প্রতিবেদন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় কুয়ালালামপুরের জাতীয় প্রাসাদে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর একটি অনির্ধারিত বৈঠক হয়েছিল। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রামানানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে Bloomberg-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্রও প্রাসাদে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের একটি বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
এখানে প্রশ্ন তোলা অন্যায় নয়।
কারণ একজন ব্যবসায়ী, যাঁকে ঘিরে বাংলাদেশে তদন্ত ও প্রত্যর্পণের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তিনি যদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন একটি বৈঠকে অংশ নেন, তাহলে সেই বৈঠকের উদ্দেশ্য, আলোচ্য বিষয় এবং অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়া উচিত।
এটি কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করার দাবি নয়। বরং এটি রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতার দাবি। সরকার চাইলে খুব সহজেই বলতে পারে—বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, FWCMS-এর ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী, বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই ব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া প্রভাব থাকবে কি না।
নতুন সরকার কী বলেছিল?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বর্তমান সরকার নিজেই আগে বলেছিল, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে আর সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবস্থা ফিরবে না।
এপ্রিল ২০২৬-এ শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সংসদে বলেছিলেন, সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সিকে দিয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আগের ব্যবস্থা সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় না; বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কাঠামোর মধ্যে সব বৈধ এজেন্সির অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছিল।
জুনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের পর দুই দেশও স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিল।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—নীতির কথা এক রকম, বাস্তব ব্যবস্থা আরেক রকম হবে কি?
এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
২৫টি এজেন্সি নয়, দরকার ২৫টি প্রশ্নের উত্তর
সরকার যদি সত্যিই নতুন ব্যবস্থা নিয়ে এগোতে চায়, তাহলে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। বরং জনগণের সামনে অন্তত কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া জরুরি।
প্রথমত, এই ২৫টি প্রতিষ্ঠান কীভাবে নির্বাচিত হলো? দ্বিতীয়ত, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কী কী যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়েছে? তৃতীয়ত, সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য কি সমানভাবে আবেদন করার সুযোগ ছিল? চতুর্থত, চাকরির চাহিদাপত্র কোন প্রক্রিয়ায় বণ্টিত হবে? পঞ্চমত, শ্রমিকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা নেওয়া যাবে এবং সেই টাকা কে নজরদারি করবে? ষষ্ঠত, কোনো এজেন্সি অতিরিক্ত টাকা নিলে তার লাইসেন্স বাতিলের কার্যকর ব্যবস্থা কী? সপ্তমত, একজন শ্রমিক পুরো প্রক্রিয়ায় মোট কত টাকা দিয়েছেন—তার ডিজিটাল রেকর্ড কি থাকবে? অষ্টমত, শ্রমিক সরাসরি অভিযোগ করার জন্য স্বাধীন কোনো ব্যবস্থা থাকবে কি? নবমত, FWCMS-এর প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ ও রিক্রুটিং এজেন্সির বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে যথাযথ firewall বা স্বার্থের সংঘাত রোধের ব্যবস্থা কী?
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
কেউ কি আবারও শ্রমিকের বিদেশযাত্রার দরজা পাহারা দিয়ে বসবে?
সিন্ডিকেট ভাঙার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো প্রতিযোগিতা
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই করার সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো আরেকটি সিন্ডিকেট তৈরি করা নয়। বরং বাজারকে যতটা সম্ভব স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং ডিজিটাল করা। একজন শ্রমিক যেন জানতে পারেন— মালয়েশিয়ায় তাঁর চাকরির বেতন কত। নিয়োগকর্তা কে। ভিসা কত। মেডিকেল খরচ কত। বিমানভাড়া কত। এজেন্সি ফি কত। সর্বমোট বৈধ খরচ কত। এবং তিনি যে টাকা দিচ্ছেন, তার প্রতিটি টাকার রসিদ যেন পান।
একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি যদি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে করা যায়, তাহলে দালালনির্ভরতা কমানো সম্ভব। একজন শ্রমিকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ যত কমবে, সিন্ডিকেটের লাভের জায়গাও তত সংকুচিত হবে।
‘এজেন্সি’ নয়, কেন্দ্রে থাকতে হবে শ্রমিক
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমরা প্রায়ই এজেন্সি, মন্ত্রণালয়, FWCMS, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কিংবা ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথা বলি।
কিন্তু যার জন্য পুরো ব্যবস্থা—সেই শ্রমিকটি কোথায়?
একজন শ্রমিক যদি বিদেশ যাওয়ার জন্য ৮ লাখ টাকা দেন এবং মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করেন, তাহলে শুধু হিসাব করলেই বোঝা যায় তাঁর ওপর কতটা ঋণের বোঝা চাপছে। বিদেশে যাওয়ার আগেই যদি পরিবারের কয়েক বছরের সম্ভাব্য আয় খরচ হয়ে যায়, তাহলে সেটি কর্মসংস্থান নয়; সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণনির্ভর অভিবাসন।
বাংলাদেশের শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো—তাঁরা তথ্যের দিক থেকে দুর্বল এবং দরকষাকষির ক্ষমতা কম।
এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করে কেউ যদি অতিরিক্ত অর্থ নেয়, তাহলে দায় শুধু অসাধু দালালের নয়; সেই ব্যবস্থারও, যে ব্যবস্থা তাকে সুযোগ দিয়েছে।
এবার ব্যর্থ হলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
মালয়েশিয়ার বাজার আবার খুলতে পারে। লাখো মানুষ আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে। গ্রাম থেকে ঢাকায় আসবে তরুণেরা। জমি বিক্রি হবে, ঋণ নেওয়া হবে, পরিবারের সঞ্চয় ভাঙবে।
এই মুহূর্তে সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো—এই স্বপ্নকে বাণিজ্যে পরিণত হতে না দেওয়া।
২০২৪ সালের ১৭ হাজার শ্রমিকের ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের তদন্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে ACC ১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং ৬৭,৩৮০ শ্রমিকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির প্রায় পাঁচ গুণ আদায় করে ১,১২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের কথা জানিয়েছে।
তাই ২০২৬ সালে এসে যদি আবারও একই ধরনের কাঠামো তৈরি হয়, তাহলে সেটিকে কেবল ‘নতুন ব্যবস্থা’ বললেই বাস্তবতা বদলে যাবে না।
সরকারকে এখনই স্পষ্ট করতে হবে—২৫টি এজেন্সির তালিকা কি কেবল একটি প্রশাসনিক তালিকা, নাকি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের নতুন প্রবেশদ্বার?
যদি প্রথমটি হয়, তাহলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই।
কিন্তু যদি দ্বিতীয়টি হয়, তাহলে প্রশ্ন করতেই হবে—পুরনো সিন্ডিকেট ভেঙে আমরা কি নতুন সিন্ডিকেটের ভিত্তি তৈরি করছি?
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলবে কি না—এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—
বাজারটি কার জন্য খুলবে?
এজেন্সির জন্য, দালালের জন্য, মধ্যস্বত্বভোগীর জন্য, নাকি সেই শ্রমিকের জন্য যিনি নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ বন্ধক রেখে বিদেশে যেতে চান?
এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ধারিত হবে—মালয়েশিয়ার নতুন শ্রমবাজার বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগ হবে, নাকি পুরনো শোষণের নতুন সংস্করণ।
