কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে রুহুল হোসেন (২০) নামে এক যুবককে আটকে রেখে মারধর এবং তার মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়রামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত রুহুল হোসেন ভেড়ামারা উপজেলার স্বরূপের ঘোপ এলাকার রশিদ হাজামের ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত রুহুলকে উদ্ধার করে। পরে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার একটি পা ভেঙে যাওয়ার কথা জানান। গুরুতর অবস্থায় পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় জয়রামপুর বাজারে একটি আইফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রুহুল হোসেনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করে একটি দোকানের পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটক অবস্থায় তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুলও কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
দৌলতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মারধরের কারণে রুহুলের একটি পা ভেঙে গেছে। এছাড়া তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
দৌলতপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুহুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তার একটি পা ভাঙার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। পরে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় স্বজনরা তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
এএসআই নজরুল আরও বলেন, আহত অবস্থায় থাকায় ওই সময় রুহুলকে নিয়ে পুলিশ কোনো মামলা প্রক্রিয়া শুরু করেনি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, তিনি বর্তমানে দৌলতপুরে নেই, কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছেন। এ কারণে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার জানা নেই।
তবে রুহুলের বিরুদ্ধে ওঠা মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগের সত্যতা এবং তাকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।








