
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলারোয়া:
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রধান সড়কের দুপাশে থাকা শতবর্ষী রেইনট্রি গাছগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। স্থানীয় একদল চিহ্নিত কাঠ চোর চক্র ও দুষ্কৃতিকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই মহামূল্যবান গাছগুলো মেরে ফেলছে। সোনাবাড়িয়া থেকে মাদরা অভিমুখী রাস্তাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান সড়কের ধারে থাকা এই ছায়াঘন গাছগুলো একসময় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে বনখেকোরা একের পর এক গাছ সাবাড় করছে।
ধ্বংসের অভিনব ও বর্বরোচিত পদ্ধতি
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, দুষ্কৃতিকারীরা রাতের আঁধারে গাছের গোড়া কেটে তাতে ইউরিয়া সার দিচ্ছে অথবা গোড়ায় আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে গাছগুলো অভ্যন্তরীণভাবে অকেজো হয়ে পড়ে এবং একসময় শুকিয়ে যায়। গাছ সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে সেটিকে ‘মৃত গাছ’ হিসেবে সাব্যস্ত করে নামমাত্র মূল্যে বা গোপনে কেটে নিয়ে বিক্রি করে ফেলছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও নেশাখোরদের এই সিন্ডিকেট।
প্রশাসনের নীরবতা ও স্থানীয়দের অভিযোগ
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সচিব, মেম্বার এমনকি খোদ চেয়ারম্যানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ জানানোর পরও আশ্বাস মিললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। প্রশাসনের এই নিরব ভূমিকা এবং গাছ নিধনে কোনো আইনি পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
স্বপ্ন রুরাল ফাউন্ডেশনের তৎপরতা
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় রুখতে মাঠে কাজ করছে অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী ওলামাদের সংগঠন ‘স্বপ্ন রুরাল ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটি ইতিমধ্যে কলারোয়ার বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে এবং এই প্রাচীন গাছগুলো রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন জায়গায় তদ্বির করে যাচ্ছে।
গাছ নিধনের এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে স্বপ্ন রুরাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোঃ হাবিবুল কবির বলেন:




> “আমাদের অঞ্চলের এই শতবর্ষী রেইনট্রিগুলো কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এগুলো আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এবং ইউএনও ম্যামের কাছে প্রতিকার চেয়েও আমরা কোনো আশানুরূপ ফল পাইনি। আমরা ছবির মাধ্যমে প্রমাণ দিয়েছি কিভাবে গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু দৃশ্যত কোনো অ্যাকশন না থাকায় দুষ্কৃতিকারীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে। আমরা অতি দ্রুত এই কাঠ চোর চক্রের গ্রেপ্তার এবং এই গাছ খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সোনাবাড়িয়া টু মাদরা সড়কের বাকি গাছগুলো রক্ষায় যদি এখনই জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কঠোর না হয়, তবে অচিরেই এই অঞ্চল ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ হারিয়ে এক মরুভূমিতে পরিণত হবে।


