কার্ডিফ, ওয়েলস: শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের সাতটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৮ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন কার্ডিফের বুটটাউন এলাকার বাসিন্দা লিটন আহমেদ (৪৭)।
দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ (South Wales Police) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট মেরথার টিডফিল ক্রাউন কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে।
আদালতে প্রমাণিত হয়, আহমেদের বিরুদ্ধে একটি মেয়েশিশুকে যৌন উদ্দেশ্যে স্পর্শের ৬টি এবং একই অপরাধের চেষ্টার ১টি মোট ৭টি অভিযোগ রয়েছে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কার্ডিফ ক্রাউন কোর্টে বিচার শেষে তিনি সব কটিতেই দোষী সাব্যস্ত হন।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীরা সামনে এসে ঘটনা জানান এবং তদন্তে সহযোগিতা করেন বলেই মামলাটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিটেকটিভ কনস্টেবল স্টিভেন টেইলর বলেন, “পুরো প্রক্রিয়াটি ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। আশা করি, এই রায় তাঁদের কিছুটা স্বস্তি দেবে।”
শুধু কারাদণ্ডই নয়, আহমেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য যৌন অপরাধীদের নিবন্ধনে (Sex Offenders Register) রাখা হয়েছে।
ব্রিটিশ আইনে ৩০ মাস বা তার বেশি সাজাপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য। এ ছাড়া আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আদেশ (Sexual Harm Prevention Order) এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (Restraining Order) জারি করেছে।
তবে এসব আদেশের পৃথক শর্তগুলো পুলিশ প্রকাশ করেনি।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ যেমন কীভাবে আহমেদ ভুক্তভোগীদের চিনতেন, কোথায় অপরাধ ঘটেছে বা কত সময় ধরে চলেছিল সেসব শিশু সুরক্ষা আইনের আওতায় গোপন রাখা হয়েছে। প্রথম অভিযোগটি কীভাবে পুলিশের কাছে পৌঁছায়, তাও প্রকাশ করেনি দক্ষিণ ওয়েলস পুলিশ।
উল্লেখ্য, আহমেদ কারাগারে যাওয়ার আগে কার্ডিফের বুটটাউন এলাকায় বসবাস করতেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Daily Dazzling Dawn-এর প্রতিবেদনে তাঁকে সিলেট থেকে আসা ব্রিটিশ বাংলাদেশি ।
তবে পুলিশ বা আদালত তাঁর জাতিগত পরিচয়কে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেনি।
২০২৫ সালের রায়ের এক বছর পর, চলতি মাসের শুরুর দিকে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। লিটন আহমেদের ১৮ বছরের সাজার প্রথম বছর শেষ হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারামুক্তির পরও যৌন অপরাধী নিবন্ধন ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা তাঁর বাকি জীবন কেও দীর্ঘমেয়াদী আইনি নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
