মহামারী, রাজনৈতিক সংকট বা যেকোনো বড় বিপর্যয়ের পরপরই চারদিকে নানা রকম গুজব আর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ কেন ভিত্তিহীন এসব কথায় এত সহজে বিশ্বাস করে, তার পেছনে বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের বেশ কিছু চমকপ্রদ ব্যাখ্যা রয়েছে:
- অর্থ খোঁজার সহজাত প্রবৃত্তি: মানুষের মস্তিষ্ক স্বভাবতই এলোমেলো ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক বা লুকানো অর্থ খুঁজতে পছন্দ করে। পরিস্থিতি যত বিভ্রান্তিকরই হোক, মানুষ এর একটি সহজ ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে স্বস্তি পেতে চায়।
- অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কমানো: ভীতিকর পরিস্থিতিতে মানুষ নিয়ন্ত্রণহীন বোধ করে। ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো তাদের মনে এই ভ্রান্ত স্বস্তি দেয় যে, ঘটনাগুলো বিশৃঙ্খলভাবে ঘটছে না, বরং কারও সুনির্দিষ্ট ইচ্ছায় ঘটছে।
- ‘গোপন সত্য’ জানার অহংকার: অনেকেই মনে করেন তারা এমন কোনো ‘গোপন তথ্য’ জেনে গেছেন, যা সাধারণ মানুষ জানে না। এটি তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়কে শক্তিশালী করে এবং সমমনা মানুষদের একটি বিশেষ কমিউনিটির অংশ হওয়ার অনুভূতি দেয়।
- আস্থার অভাব: সরকার, গণমাধ্যম বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের যখন বিশ্বাস কমে যায়, তখন তারা আশপাশের মানুষের ছড়ানো বা নিজস্ব আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের তত্ত্বে বেশি প্রভাবিত হয়।
- সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদ: ইন্টারনেটের যুগে সত্যের চেয়ে মিথ্যা বা চাঞ্চল্যকর খবর অনেক দ্রুত ছড়ায়। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের মনোযোগ ধরে রাখতে এ ধরনের আবেগপূর্ণ কনটেন্ট বারবার সামনে আনে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মানুষ এসব তত্ত্বে মানসিক শান্তি বা সান্ত্বনা খুঁজলেও, দিনশেষে এগুলো তাদের মধ্যে আরও বেশি অসহায়ত্ব ও অস্থিরতা তৈরি করে।
