নৃত্য

মুহাম্মদ ফজলুল হক

হঠাৎ পেট ব্যথা শুরু হলে শ্রাবন্তী জামিকে মলের সামনে গাড়ি থামাতে বলে। জামি শ্রাবন্তীর কথা বুঝতে পারে না। রেগে গিয়ে শ্রাবন্তী জোড়ে বলে, ‘প্লিজ, গাড়ি থামাও।” অবাক হয়ে জামি দ্রুত ব্রেক কষে। শ্রাবন্তী দরজা খুলে দৌড়ে মলের ফার্মেসি থেকে প্যাড কিনে ওয়াশরুমে গিয়ে ব্যবহার করে স্বস্তি অনুভব করে। মল থেকে বের হয়ে শ্রাবন্তী খেয়াল করে, জামি অফ-মুডে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে। সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নেমে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে জামিকে শটগান সিটে বসার ইঙ্গিত করে। শ্রাবন্তীর পাশে বসে জামি সিটবেল্ট বেঁধে নেয়। দেরি করে না শ্রাবন্তী। গাড়ি নিয়ে বাবু বাজারের নতুন রাস্তা দিয়ে বেরিয়ে নিমতলী হয়ে সোজা এক্সপ্রেসওয়েতে ওয়েতে পৌছে যায়। অ্যাক্সিলারেটরে চাপ বাড়িয়ে দেয় শ্রাবন্তি, গাড়ি গতি বাড়িয়ে ছুটতে শুরু করে।

জামির দিকে না তাকিয়েই শ্রাবন্তি বলে, “মুখ পেঁচার মতো করে রেখেছ কেন?”
“পেঁচার মতো করে রাখিনি। আমার মুখই এমন।”
“এমন মুখই আমার পছন্দ।”
এই বলে শ্রাবন্তী জামির ছোট দাড়িতে হাত বুলিয়ে দেয়। না হেসে পারে না জামি। সে স্টিয়ারিংয়ে রাখা শ্রাবন্তীর বাঁ হাতটি স্পর্শ করতেই শ্রাবন্তী গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়।

গাড়ি যত দক্ষিণের দিকে এগোয়, শহরের কোলাহল তত ধীরে ধীরে পেছনে পড়ে যায়। রাস্তার দুপাশে সারি সারি গাছ, কোথাও ঘন সবুজের আড়াল, কোথাও খোলা আকাশের নিচে বিস্তৃত মাঠ। পথটা যেন ক্রমেই শহর থেকে প্রকৃতির দিকে নিয়ে যায়। বৃষ্টির পানি গাড়ির সামনের কাচ থেকে সরানোর জন্য জামি উইন্ডশিল্ড ওয়াইপার চালু করে। ওয়াইপার ও বৃষ্টির ফোঁটার খেলায় কেউ জয়ী হয় না।
ভেজা রাস্তায় গাড়ির চাকার শব্দের সঙ্গে মিশে যায় জমে থাকা বৃষ্টির পানির শব্দ। রাস্তার পাশে ছোট ছোট দোকান, দূরে ছুটে চলা রিকশা আর মানুষের ব্যস্ততা মুহূর্তের জন্য চোখে পড়ে, আবার গাছের সবুজে হারিয়ে যায়। বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ। যতই সামনে এগোয়, ততই পথ প্রশস্ত হয়, আকাশ যেন আরও কাছে নেমে আসে। বৃষ্টি বাড়তে থাকে। উইন্ডশিল্ড ওয়াইপারের ফাঁক দিয়ে দূরে পদ্মা সেতুর অবয়ব দেখা দিলে শ্রাবন্তীর চোখে একরাশ আনন্দ জ্বলে ওঠে।

জামি অপলক তাকিয়ে থাকে শ্রাবন্তীর দিকে। শ্রাবন্তীর আনন্দ যেন তাকেও ছুঁয়ে যায়। মেয়েটা সত্যিই অসাধারণ! প্রথম দেখাতেই জামির ভালো লেগেছিল। জিন্সের সঙ্গে টপসে অনন্য লাগছিল। ফর্সা পায়ে পরা চটি আর নখের নেইলপলিশও অদ্ভুতভাবে আকৃষ্ট করছিল জামিকে।
“তুমি একটু সরে বসো, আমি বসব।”
শ্রাবন্তীর মুগ্ধতা ছড়ানো কণ্ঠ! জামি তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
“আরে বাবা, সরো! একটু বসতে তো দাও।”
রোবটের মতোই সরে যায় জামি।
“ঠিক আছে, ঠিক আছে।” বলেই শ্রাবন্তী তার পাশে বসে। শ্রাবন্তীর শরীর থেকে ভেসে আসা সৌরভে মুহূর্তেই আবিষ্ট হয়ে যায় জামি। ক্লাশের সবকিছু তার কাছে শ্রাবন্তীময় হয়ে উঠে।

“এমন শক্ত হয়ে আছ কেন? স্বাভাবিক হয়ে বসো।”
জামি আরেকটু সরে গিয়ে নড়েচড়ে বসে। শ্রাবন্তীও ইচ্ছে করেই জামির আরও কাছে সরে আসে। শ্রাবন্তীর দুষ্টুমি দেখে হেসে ওঠে জামি।
“তুমি তো খুব সুন্দর করে হাসো। কী নাম তোমার?”
“জামি। জামি আমার নাম।”
শ্রাবন্তী হেসে ওঠে।
“আমি শ্রাবন্তী।”
“দেখলেই বোঝা যায়।”
“মানে?”
“শ্রাবণের অঝোর ধারা বইয়ে চলছে যে!”
জামির কথায় হঠাৎ চুপ হয়ে যায় শ্রাবন্তী। অকারণেই এক ধরনের ভালো লাগা এসে ছুঁয়ে যায় তাকে।
“ঠিক আছে, আর কথা বলব না!”
“কথা বললে তোমাকে আরও ভালো দেখায়।”
চমকে ওঠে শ্রাবন্তী। জামির কথার রসবোধে মুগ্ধ হয় সে।

পদ্মা সেতুর সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে জামির দিকে তাকায় শ্রাবন্তী। জামির অপলক চাহনিতে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে না পেরে চোখ সরিয়ে নেয়।
“কী দেখ এমন করে?” বলে শ্রাবন্তী।
“তোমাকে!”
লজ্জা পেয়ে যায় শ্রাবন্তী। জামির চোখের মুগ্ধতায় তার শরীরজুড়ে এক ধরনের আবেশ ছড়িয়ে পড়ে। স্টিয়ারিং থেকে বাঁ হাতটি তুলে জামির ডান হাত ধরতে যায় সে। জামি হঠাৎ হাত সরিয়ে নেয়।
অবাক চোখে তাকায় শ্রাবন্তী।
“পদ্মা সেতুই দেখো! আমাকে দেখতে হবে না।”
অ্যাক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে ব্রেকে চাপ দেয় শ্রাবন্তী। একই সঙ্গে ডান পাশের ইন্ডিকেটর জ্বালিয়ে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়িটিকে পাশে এনে থামায়। তারপর জোরে হেসে বলে, “আরে বাবা, তুমিই তো আমার জীবনের পদ্মা সেতু! এখন থেকে তোমাকেই শুধু দেখব, সেতু দেখব না।”
জামির ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠে।
সে গাড়ি থেকে নেমে শ্রাবন্তীর দিকে এগিয়ে যায়। দরজা খুলে দেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই শ্রাবন্তী বেরিয়ে এসে জামির হাত ধরে বলে, “চলো, কফি খাওয়াব তোমাকে। তুমি বসে বসে খাবে, আমি প্রাণভরে দেখব তোমায়।”
জামি কিছু বলে না। নীরবে শ্রাবন্তীকে অনুসরণ করে।

কফি শেষ করার আগেই আবার বৃষ্টি শুরু হয়। তারা দৌড়ে গাড়িতে ওঠে। মাথা নুইয়ে দুইদিকে থেকে দুজন গাড়িতে প্রবেশ করার সময় জামি বলে, “আসার সময় হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছিল কেন?”
বসতে বসতে শ্রাবন্তি বলে, “প্যাড নিয়েছি।”
“সরি, বুঝতে পারিনি।”
“বুঝতে হবে না। বেল্ট বাঁধো।”
“সোনারগাঁও না গিয়ে এদিকে আসছ?”
“পদ্মা সেতুতে ওঠে নাচব বলে! না, না তোমাকে নিয়ে নাচব বলে।”

হঠাৎ গাড়ির গতি বেড়ে যায়। ব্রেক প্যাডেলে চাপ দিতেই শ্রাবন্তীর বুক কেঁপে ওঠে। প্যাডেলটা অস্বাভাবিক নরম হয়ে মেঝের দিকে চলে গেলেও গাড়ির গতি কমে না। সে দ্রুত অ্যাক্সিলারেটর থেকে পা সরিয়ে নিয়ে হ্যাজার্ড লাইট জ্বালিয়ে দেয়।
“জামি, ব্রেক কাজ করছে না!”
জামি আঁতকে উঠলেও শ্রাবন্তী নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে সে গাড়িটিকে সোজা রাখে। বারবার ব্রেক পাম্প করেও কোনো লাভ হয় না। সে গিয়ার ধীরে ধীরে কমিয়ে ইঞ্জিন ব্রেক ব্যবহার করতে থাকে। সামনে যানবাহন দেখলে দূরত্ব বজায় রেখে হর্ন ও হ্যাজার্ড লাইট দিয়ে সতর্ক করে। শ্রাবন্তী কোনোভাবেই স্টিয়ারিং ঘোরায় না। গাড়ির গতি যতটা সম্ভব কমিয়ে রাস্তার নিরাপদ পাশে নেওয়ার চেষ্টা করে।

জামির নার্ভাস লাগলেও সে শ্রাবন্তীকে উদ্দেশ্য করে বলে, ” ভয় পেও না৷ স্টিয়ারিং না ঘুড়িয়ে সামনে তাকিয়ে থাকো।”
“নিজকে নিয়ে ভাবে না শ্রাবন্তী। জামিকে নিয়ে যত ভয়। জামির কিছু হলে নিজকে ক্ষমা করতে পারবে না।”
জামির ভরসা পেয়ে ভালো লাগে শ্রাবন্তীর। একপলক তাকায় জামির দিকে। সাড়া মুখে মায়া ছড়িয়ে আছে। দ্রুত জামি শ্রাবন্তীকে সামনে তাকাতে ইশারা করে। শেষে একটি খোলা জায়গা পেয়ে সেখানে প্রবেশ করে গাড়ি ঘোরাতে থাকে শ্রাবন্তী। মানুষ জমে যায়। নারী চালক দেখে কৌতুহলী হয়ে উঠে সবাই। ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ জোড়ে ঝাকুনি দিয়ে গাড়িটি থেমে যায়। গাড়ি থামতেই দুজনে কয়েক মুহূর্ত নিশ্চুপ থাকে।
গাড়ি থামার পরও স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে রেখেছে শ্রাবন্তী। তার বুকের ভেতর দ্রুত ওঠানামা করা শ্বাস ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। জামি উদ্বিগ্ন চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। শ্রাবন্তী দীর্ঘশ্বাস ফেলে জামির কাছে আত্মসমর্পণ করে বলে, “বেঁচে গেছি!”

জামি কিছু বলে না। শক্ত করে শ্রাবন্তীর হাত ধরে রাখে। জামির অবস্থা দেখে অনেক দিন আগের কথা মনে পড়ে শ্রাবন্তীর। বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তদান অনুষ্ঠান চলছিল। শ্রাবন্তী জীবনের প্রথম রক্ত দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে সে দেখে, প্রচণ্ড মন খারাপ করে জামি তার হাত ধরে বসে আছে। জামির অবস্থা দেখে হেসে উঠেছিল শ্রাবন্তী। সেই থেকে একসাথে সাথে পথচলা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা গাড়ি থেকে বের হয়ে সামনের দোকানে বসে চা খায়। এই ফাঁকে মেকানিক ব্রেক চেক করে। শ্রাবন্তী গাড়িতে ওঠে ব্রেক প্যাডেলে পা রাখে। কয়েকবার চাপ দিয়ে দেখে প্যাডেল ঠিক হয়েছে। ব্রেক আবার কাজ করছে। জামি বলে, “ তুমি উঠে আস, আমি ড্রাইভ করব।” শ্রাবন্তী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, “না, আমিই চালাব।

সে গাড়ি স্টার্ট দেয়। নীরবতা ভেঙে ইঞ্জিন শব্দ করে ওঠে। শ্রাবন্তী ধীরে ধীরে গাড়ি এগিয়ে নেয়। এক হাতে শক্ত করে ধরা স্টিয়ারিং অন্য হাত গিয়ারে। প্রতিটি বাঁক, প্রতিটি গাড়ি, প্রতিটি ব্রেকের মুহূর্তে তার সতর্ক দৃষ্টি। জামি নিঃশব্দে পাশে বসে থাকে। কিছুক্ষণ পর শ্রাবন্তীর দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে, “তোমার সঙ্গে থাকলে মনে হয়, জীবনটা ব্রেক ছাড়া গাড়ির মতো!”
শ্রাবন্তী হেসে ফেলে। “ভয় পেয়েছ?”
“তোমাকে হারানোর ভয় পেয়েছিলাম।”
হাসিটা প্রশস্ত হয় শ্রাবন্তীর। সে এক মুহূর্ত জামির দিকে তাকিয়ে আবার সামনে চোখ রাখে।

প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে শ্রাবন্তীর গাড়ি পদ্মা সেতুর মাঝ বরাবর থামে। চারপাশ ধূসর জলরঙে আঁকা কোনো স্বপ্নের মতো। আকাশজুড়ে কালো মেঘ, তার বুক চিরে নেমে আসা অবিরাম বৃষ্টি। নিচে উত্তাল পদ্মা। বৃষ্টির ফোঁটা পদ্মার মসৃণ পানিকে অমসৃণ করে যেন নেচে উঠেছে। শ্রাবন্তী দরজা খুলে নেমে যায়। মুহূর্তে তার চুল, মুখ, চোখ পোশাক বৃষ্টিতে ভিজে যায়। সে রেলিংয়ের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। দূরে বৃষ্টির পর্দার আড়ালে নদীর দুই পাড় অস্পষ্ট। সেতুর ওপর দিয়ে ছুটে চলা গাড়ির আলো ভেজা রাস্তায় লম্বা রেখা এঁকে যাচ্ছে।

জামি গাড়ির ভেতর থেকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। শ্রাবন্তী ফিরে তাকিয়ে হাসে। সেই হাসির মধ্যে বৃষ্টির মতোই বিরামহীন উচ্ছ্বাস।
“নামো।”
“এই বৃষ্টির মধ্যে?”
“হ্যাঁ, এই বৃষ্টির মধ্যেই।”
শ্রাবন্তী গাড়ির দরজা খুলে জামিকে প্রায় জোর করেই নামিয়ে আনে।
দুজন পাশাপাশি দাঁড়ায়। বৃষ্টির ফোঁটা তাদের শরীর বেয়ে নেমে যায়। শ্রাবন্তী হাত বাড়িয়ে জামির হাত ধরে।
“জানো, এমন মুহূর্তের জন্যই মানুষ এত দূর পথ পাড়ি দেয়।”
জামি তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে।

​সেতুর স্তম্ভের ওপর স্থাপিত আর্কিটেকচারাল লাইটের উপর বৃষ্টির পানি জমে গাঢ় নীল হয়ে নদীর বুকে পড়তে পড়তে আলো ঝলমলে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করেছে। নদীর বুকে চিড়ে বয়ে চলা সাদা স্টিলের কাঠামো, বিশাল পিলার প্রমত্তা পদ্মার সাথে মানুষের সম্পর্ক নিবিড় করেছে। শ্রাবন্তী চোখ সরিয়ে নদীর দিকে তাকায়। তার ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি ফুটে ওঠে। হঠাৎ সে জড়িয়ে ধরে জামিকে। তারপর দৌড়ে চলে যায় সেতুর মাঝখানে। তার ভেজা চুল বাতাসে উড়তে থাকে। বৃষ্টির ফোঁটা তার হাসিমাখা মুখে আছড়ে পড়ে। সে দুই হাত মেলে নাচতে শুরু করে। যেন বৃষ্টি আর নদীর সাথে নিঃশব্দ কথোপকথনে মেতে উঠেছে।

জামি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখে। তারপর দৌড়ে এসে যোগ দেয় শ্রাবন্তীর সঙ্গে। পরস্পরের হাত ধরে, চোখে চোখ রেখে দুজন একসাথে নাচতে থাকে। শ্রাবন্তীর উচ্ছ্বাস আরো বেড়ে যায়। জামিকে কেন্দ্র করে তার প্রাণ আনন্দে মেতে ওঠে। দুজনের নড়াচড়া, শরীরের স্পন্দন, পায়ের ছন্দ, নীরব ভাষা, রাস্তার শব্দ, বৃষ্টির স্বাদ আর ছুটে চলা গাড়ি তাদেরকে ঘিরে এক অদ্ভুত আলোকবৃত্ত তৈরি করেছে। পদ্মার ওপর বৃষ্টি আরও ঘন হয়ে নামে। সেতুর মাঝখানে অসংখ্য ছুটে চলা গাড়ি এবং আলোর নৃত্যের মধ্যেও শ্রাবন্তি-জামির পৃথিবীটা যেন হঠাৎ থেমে যায়।

আরও পড়ুন

তুমি মেঘ হয়ে এসো

0
হাসান মাহমুদ চৈত্রের দাবদাহে ঝলসে যায় গাঙচিলের দুটি ডানা, পুড়ছে ধরিত্রী ভীষণ খরায় তোমার আছে কী জানা? মরুময় শুকনো খাল-বিল বিবর্ণ পাতারা ঝরে পড়ে আজও তৃষ্ণার্ত আবাবিল ডাকে তোমায় স্বকাতরে। ফেঁটে চৌচির ফসলের...

আরও পড়তে পারেন

তুমি মেঘ হয়ে এসো

হাসান মাহমুদ চৈত্রের দাবদাহে ঝলসে যায় গাঙচিলের দুটি ডানা, পুড়ছে ধরিত্রী ভীষণ খরায় তোমার আছে কী জানা? মরুময় শুকনো খাল-বিল বিবর্ণ পাতারা ঝরে পড়ে আজও তৃষ্ণার্ত আবাবিল ডাকে তোমায় স্বকাতরে। ফেঁটে চৌচির ফসলের...

অক্টোবর রেইন

জান্নাতুল ফেরদৌস সামিয়া অক্টোবরের প্রথম বৃষ্টি। বাতাসে হালকা শীতের গন্ধ। প্রিয় রঙের 'আধাভাঙা সৈনিক'টাকে প্রতিদিনের মতো ব্যাগে ঢুকিয়ে নিলাম। সৈনিক বলতে ছাতা। ওর দুটো শিক...

নীল দরজা

 সায়মা বিনতে ইসমাইল বাড়িটায় প্রথম রাতেই আমি বুঝেছিলাম, কিছু একটা ঠিক নেই। অস্বাভাবিক কিছু নয়। পুরোনো বাড়ি হলে শব্দ হবেই - কাঠের দরজা কড়কড় করবে, জানালায়...